লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ১৬
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। রাতভর চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) লেবাবনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
এনএনএ এই হামলাকে ওই অঞ্চলের ওপর চালানো সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ও নৃশংস আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে এনএনএ জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী কামান ও বিমান হামলা শুরু করে। নাবাতিহ শহর, কফর জুজ, কফর রেমান এবং জেবদিনসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় একের পর এক কামানের গোলা এসে পড়তে থাকে। এর পরপরই কফর তিবনিত এবং রায়হান পাহাড়ের উচ্চভূমিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। নাবাতিহ এবং হারুফ এলাকায় বোমাবর্ষণে অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দুয়ারের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি বাড়িতে হামলায় চারজন এবং কফর সির শহরে আরো তিনজন নিহত হন।
পাশাপাশি, দুয়ার পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ সংঘাতের মাঝেই সুইজারল্যান্ডে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্বপরিকল্পিত কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলেই মূলত আলোচনাটি স্থগিত হয়ে পড়ে।
বুধবার (১৮ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল- লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা।
তবে ইসরায়েলের দাবি, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়ে আসায় তাদের এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকা জরুরি।
ঢাকা/ফিরোজ