ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩৩ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৭, ১৯ জুন ২০২৬  
পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

ফাইল ফটো

পাবনা পৌর সদরের গোপালপুর আইবি রোডের একটি বাসা থেকে আজমিরা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।  

আরো পড়ুন:

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের সময় পা মাটিতে লেগে থাকায় গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি হত্যা করে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্ট করা হচ্ছে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। 

মৃত আজমিরা খাতুন পাবনা পৌর সদরের ২ নাম্বার গোপালপুর আইবি রোড মহল্লার আরিফ হোসেনের স্ত্রী। তিনি সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামে আক্কাস প্রামানিকের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর সাথে অভিমান করে বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখেই দরজা বন্ধ করে দেন আজমিরা। এরপর স্বামী অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় তিনি সারারাত অন্য একটি কক্ষে ঘুমান। সকাল ৮টার দিকে পরিবারের লোকজন পুনরায় দরজা বন্ধ পেয়ে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পাননি। পরে তার স্বামী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। ফোন পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আজমিরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৃহবধূ আজমিরার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মরদেহ উদ্ধারের সময় গৃহবধূর পা মাটিতে ছিল। এভাবে তো কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না বা এভাবে কেউ ফাঁস নিলে মারা যাবার কথা নয়। আবার ওই বাসার জানালায় কবজা সিস্টেম থাকায় সেখান দিয়ে বাইরে অনায়াসে মানুষ যাওয়া আসা যায়। আজমিরার স্বামী আরিফ একজন স্কুলশিক্ষক। তার আগের একটি স্ত্রী ছিল। আজমিরা ছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী।

মারা যাওয়া আজমিরার স্বামী আরিফ হোসেন বলেন, “অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে আমি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।” 

আজমিরার বাবা আক্কাস প্রামানিক বলেন, “মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। রাতেই জামাই ফোন করে জানিয়েছিল। সকালে ফোন করে জামাই আবার বলে আপনার মেয়ে ঘরের দরজা খুলছে না। আপনি আসেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তুমি কোথায় ছিলে, বললো আরেক রুমে ছিলাম। পরে আমি গিয়ে বাসার দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। কিভাবে মারা গেল বুঝতে পারছি না। প্রথমে শিশুর ছেলের কথা ভেবে আপোস করার চিন্তা করছিলাম। কিন্তু যেহেতু পুলিশ বলছে পোস্টমর্টেম করতেই হবে। তাই আমরাও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”  

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ঘটনায় মারা যাওয়া গৃহবধূর পরিবার বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি।”

ঢাকা/শাহীন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়