ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩৩ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাদ হত্যা মামলা

গুরুত্বপূর্ণ আসামির নাম বাদের অভিযোগ, পুনঃতদন্তের দাবি এনসিপির

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ১৯ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪২, ১৯ জুন ২০২৬
গুরুত্বপূর্ণ আসামির নাম বাদের অভিযোগ, পুনঃতদন্তের দাবি এনসিপির

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম (মুকুল)।

ঢাকার ধামরাইয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন আসামির নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম (মুকুল)। তিনি মামলাটি পুনঃতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে ধামরাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল ইসলাম (মুকুল) বলেন, “শহীদ সাদ হত্যা মামলায় দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন নিহতের পরিবার, স্বজন ও ধামরাইবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।” দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় থাকা মানুষ প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করলেও তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, মামলার চার্জশিট থেকে আহাম্মদ আল জামান, সানোরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ খান (লালটু), সোমভাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনসহ আওয়ামী লীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার স্বার্থে এবং কার নির্দেশে এসব গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কেন এ ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তার জবাব ধামরাইবাসী জানতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপির ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- বর্তমান ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপিকে অবিলম্বে মামলার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা, একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের সংস্থার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্ত করা, বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের ভূমিকা পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল ইসলাম বলেন, শহীদ সাদের পরিবার ও ধামরাইবাসী কোনো প্রহসনের বিচার মেনে নেবে না। তারা প্রতিহিংসা বা মিথ্যা মামলা চান না, তবে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার কোনো অপচেষ্টাও মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদনটি পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তার ভাষ্য, “শহীদ সাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। সত্য গোপন করা যায়, কিন্তু পরাজিত করা যায় না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

ঢাকা/সাব্বির/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়