ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৫ ১৪৩৩ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মফিজের সুইমিংপুলের স্বপ্নের মতোই অবাস্তব বাজেট: রুমিন ফারহানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৩, ১৯ জুন ২০২৬  
মফিজের সুইমিংপুলের স্বপ্নের মতোই অবাস্তব বাজেট: রুমিন ফারহানা

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফাইল ফটো

জাতীয় বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। 

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, ‍“মাসে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা বেতন পাওয়া মফিজ নামের একজন মানুষের রাজধানীতে তিন একর জমির ওপর সুইমিংপুলসহ বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি এই বাজেটের আয়-ব্যয়ের হিসাবও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপরই চাপানো হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার দায়িত্ব। অথচ গত অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।” এমন পরিস্থিতিতে দ্বিগুণের কাছাকাছি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা জানান, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হলে সরকারকে ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হতে হবে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হবে এবং বিনিয়োগ আরো বাধাগ্রস্ত হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশে বিনিয়োগ এমনিতেই চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বল অবস্থার কথা তুলে ধরে রুমিন বলেন, “বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। অবলোপন, পুনঃতফসিল ও মামলা-সংক্রান্ত অর্থ যোগ করলে এ অঙ্ক প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশের সমান।” এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাত সরকারের অর্থায়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশের বৈদেশিক ঋণ ইতোমধ্যে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নতুন বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ অবস্থায় আরো ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

করমুক্ত আয়সীমা প্রসঙ্গেও সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করা একজন মানুষকে করের আওতায় আনা মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। দেশে আয় বৈষম্য বাড়লেও করের বোঝা মূলত চাকরিজীবীদের ওপরই চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০.৯ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ১.৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। ফলে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর লাখো মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

বক্তব্যের শেষদিকে নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুমিন ফারহানা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সচল রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা/এএএম/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়