শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প
শাকিরা
ফুটবল বিশ্বকাপের থিম সং আর পপতারকা শাকিরা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান এখনো সংগীতপ্রেমীদের মনে হিন্দোল তুলে। ছাব্বিশের ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চও মাত করেছেন এই তারকা। ফুটবল বিশ্বকাপ ও শাকিরা এখন হাত ধরাধরি করে চলমান। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শাকিরার ব্যক্তিগত জীবনও। এই পপতারকার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প নিয়ে এই প্রতিবেদন—
ওসভালদো রিওস
১৯৯৭ সালে ‘তেলেনোভেলা’খ্যাত অভিনেতা ওসভালদো রিওসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সংগীতশিল্পী শাকিরা। তখন ওসভালদোর বয়স ৩৬, আর শাকিরার ২০ বছর। তাদের বয়সের ব্যবধান ছিল ১৬ বছর। তবে এ জুটির সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৮ মাস সম্পর্কে ছিলেন তারা।

শাকিরা, ওসভালদো
শাকিরা ও ওসভালদো—দুজনেই এ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। ‘কারা কারা কোন রদনের ফিগেরোয়া’ নামে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ওসভালদো এই সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তার ভাষায়—“আমার জীবনে এটি অন্যতম অনন্য এক অভিজ্ঞতা ছিল। কারণ এই সম্পর্ক শারীরিক আকর্ষণের ওপর নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক সংযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে ওসভালদো বলেন, “জীবনে কিছু বিষয় কখনো ভোলা যায় না। এটি এমন একটি সম্পর্ক ছিল, যা আমার জীবনে অনেক শিক্ষা নিয়ে এসেছে। আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, আমি একজন সঙ্গী পেতে পারি এবং এমন এক বন্ধন অনুভব করতে পারি, যা শরীরের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং মানসিক সংযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত; সেটিও সমানভাবে উপভোগ করা সম্ভব।”
শাকিরা
শাকিরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চেয়েছিলেন ওসভালদো। কিন্তু সবশেষ সম্পর্কটি ভেঙে যায়। কারণ ব্যাখ্যা করে ওসভালদো বলেন, “আমরা বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, সবকিছুই সেই দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু আমি মনে করেছিলাম, এটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম সামনে কী আসতে চলেছে। আমি বলেছিলাম, ‘এই পাখিটাকে (শাকিরা) অনেক উঁচুতে উড়তে হবে।”
২০২৩ সালের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসভালদো বলেন, “শাকিরা আমার জন্য অনেক গান লিখেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম—‘ইউ’। শাকিরা বিমান ভ্রমণের সময় প্রায়ই ন্যাপকিনে গান লিখত।”
আন্তোনিও বে লা রুয়া
ওসভালদোর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আর্জেন্টিনার আইনজীবী আন্তোনিও বে লা রুয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শাকিরা। তার আরেক পরিচয় তিনি প্রয়াত আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো বেলা রুয়ার পুত্র। তাদের সম্পর্ক ১০ বছর স্থায়ী হয়। ২০১০ সালে প্রেমের সম্পর্কের ইতি টানেন এই যুগল। আন্তোনিওর সঙ্গে শাকিরার পরিচয় তার বাবা ফের্নান্দো বে লা রুয়ার নির্বাচনি প্রচারের সময়ে। শাকিরা তখন ‘এমটিভি আনপ্লাগড’ অ্যালবামের প্রচার করছিলেন এবং ‘অ্যানফিবিও ট্যুর’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আন্তোনিও বহু বছর শাকিরার আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেন।
আন্তোনিওর সঙ্গে শাকিরা
শাকিরার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কয়েক বছর পর অর্থাৎ ২০১২ ও ২০১৩ সালে আন্তোনিও অভিযোগ করেন, শাকিরার ক্যারিয়ার গড়তে তার বড় ভূমিকা ছিল। এজন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। তবে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। ২০১৯ সালে ফের্নান্দো বে লা রুয়ার মৃত্যুর পর শাকিরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কেবল তাই নয়, ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন একটি বার্তাও দিয়েছিলেন।
জেরার্ড পিকে
ফুটবল বিশ্বকাপ আর পপতারকা শাকিরার অবিচ্ছেদ্যে সম্পর্ক। ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে মাত করেন গোটা দুনিয়াকে। এ গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে পরিচয় হয় স্প্যানিশ ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে। সময়ের সঙ্গে তাদের পরিচয় রূপ নেয় প্রেমে। ২০১১ সালের শুরুতে ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ একটি ছবি প্রকাশ করে পিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাকিরা। বিয়ে না করেও এক ছাদের নিচে তারা এক যুগ বসবাস করেন। তাদের মিলান (২০১৩) ও সাশা (২০১৫) নামে দুটো পুত্রসন্তান রয়েছে। তারপরও এ জুটির মধ্যে তৈরি হয় তিক্ততা। ২০২২ সালের জুনে, যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা।
জেরাড পিকের সঙ্গে শাকিরা
শাকিরার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সন্তানেরাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের ভালোর জন্যই আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানাই। বিষয়টি বুঝতে পারার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”
রোমান্সে মত্ত পিকে, প্রেমহীন শাকিরা
শাকিরার সঙ্গে প্রেম ভাঙার পর অর্থাৎ ২০২৩ সালের শুরুতে ক্লারা চিয়া মার্তির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কে জড়ান জেরার্ড পিকে। বিচ্ছেদের পর বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন চাউর হয়, ব্রিটিশ অভিনেতা লুসিয়েন ল্যাভিসকাউন্ট ও ব্রিটিশ রেসিং ড্রাইভার লুইস হ্যামিল্টনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন শাকিরা। তবে শাকিরার জীবনে এখন প্রেম নেই বলে দাবি করেছেন এই তারকা।
দুই পুত্রসন্তানের সঙ্গে শাকিরা
৪৯ বছর বয়সি শাকিরা এখনো অবিবাহিত। কয়েক মাস আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সংগীতশিল্পী বলেন, “আপাতত আমার জীবনে কোনো প্রেম নেই। আমার জীবনে প্রেমের জন্য যেমন কোনো জায়গা নেই, তেমনই সময়ও নেই। আমার ব্যস্ততা অনেক। আমার সন্তানেরাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার, এরপর আমার ক্যারিয়ার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমি এখন আমার কাজ ও ক্যারিয়ারের প্রেমে এমনভাবে পড়েছি, যা আগে কখনো পড়িনি। আর একা কাটানো সময়ও আমি বেশ উপভোগ করছি।”
*হলিউড লাইফ, হোলা ডটকম অবলম্বনে
ঢাকা/শান্ত