ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধনের ৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি সীমানা প্রাচীর

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ২২ জুলাই ২০২৫   আপডেট: ১৬:৫১, ২২ জুলাই ২০২৫
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধনের ৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি সীমানা প্রাচীর

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঙা সীমানা প্রাচীর

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২২ সালের মার্চে ২ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৫০০ মিটার দৈর্ঘের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু ৩ বছর পার হলেও সম্পন্ন হয়নি এ সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কিছু অংশ এখনও বাকি রয়ে গেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের যে অংশ নির্মাণ করা হয়, তার কয়েকটি জায়গায় স্থানীয়রা দেওয়াল ভেঙে ফেলে। শিউলীমালা হল সংলগ্ন অংশ ভেঙে ফেলার পর তা সংস্কার করা হলেও চুরুলিয়া মঞ্চ ও নতুন বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন অংশ এখনও সংস্কার হয়নি।

আরো পড়ুন:

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ এলাকায় স্থানীয়দের বাঁধায় যে অংশটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। সেখানেও দেয়াল নির্মাণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তিতে ১ ডিসেম্বর থেকে চলাচলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি গেইট ব্যবহারের এবং ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ফাঁকা অংশ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তবে এ নির্দেশনার সাত মাস পার হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন।

চারুদ্বীপ এলাকার বাড়িওয়ালা মাহমুদ আলী বলেন, “রাস্তা এখনই বন্ধ করা হবে না। আমাদের যাতায়াতের জন্য এই ভার্সিটির রাস্তা ছাড়া অন্য কোন পথ নাই। কয়েক মাস আগে ইউওএনও সাহেব এসে দেখে গেছেন। আমাদের জন্য বিকল্প একটা রাস্তা করে দিবে পূর্ব দিক দিয়ে। এখন হয়তো বাজেট নেই, তাই রাস্তা করতে পারছে না।”

তিনি বলেন, “এটা বন্ধ করে দিলে আমাদের একটু কষ্ট হবে। আমাদের ঘুরে যেতে হবে অনেকখানি। এখনকার মতো হয়তো ভাড়াটিয়াও পাওয়া যাবে না। আপাতত বিকল্প রাস্তা না করা  পর্যন্ত এই রাস্তা বন্ধ করা হবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল  বলেন, “এই জায়গাগুলো খোলা থাকলে ভার্সিটির নিরাপত্তার একটা শঙ্কা থাকে। আমাদের জন্য এ জায়গাগুলো দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা হয় ঠিক। কিন্তু এটা আমাদের যাতায়াতের জন্য না, এর জন্য প্রধান ফটক রয়েছে। আমার বাসায় যদি দেয়াল থাকে, তাহলে যতই ঘুরে হোক আমাকে ফটক দিয়েই ঢুকতে হবে। তাছাড়া এভাবে খোলা থাকলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যেতে পারে।”

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা এটার উদ্যোগ নেব। সব বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটা কবে করা হবে, সেটা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। তবে যতদ্রুত সম্ভব আমরা এটা বন্ধ করে দেব। এটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আমাদের উপর চাপ আছে।”

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, “এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে, এই জায়গাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই কাজ করার জন্য আমাদের আসলে নিরাপত্তা দরকার। এর জন্য প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কারণ আজ বন্ধ করে দিলে কাল আবার ভাঙা হতে পারে। এই জায়গাগুলো আগে তো বন্ধ করাই ছিল, পুনরায় যেন না ভাঙে সেজন্য নিরাপত্তা দরকার।”

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা প্ল্যানিং কমিটিকে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা হয়তো খুব তাড়াতাড়িই কাজ শুরু করবে।”

ঢাকা/মুজিবুর/মেহেদী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়