বলিউডের নিষিদ্ধ পাঁচ সিনেমার গল্প
আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম
অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপাতি বিজয়। তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণে সিনেমাটির মুক্তি আটকে গেছে। বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বিজয়ের সিনেমার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিজয়ের সিনেমার ঘটনাই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কিছু সিনেমা এ ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েছে। মজার বিষয় হলো—বলিউডে এমন কিছু জনপ্রিয় সিনেমা রয়েছে, যেগুলো প্রথমে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়, পরবর্তীতে মুক্তি পায়। যদিও এ তালিকা মোটেও ছোট নয়, তবে পাঁচটি আলোচিত সিনেমা নিয়ে এই প্রতিবেদন—
লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরকা
অলংকৃতা শ্রীবাস্তব নির্মিত আলোচিত সিনেমা ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরকা’। বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হলেও ভারতীয় সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) আপত্তি জানায়। যৌনদৃশ্য, আপত্তিকর শব্দ, অডিও পর্নোগ্রাফি ব্যবহার এবং কিছু দৃশ্য সমাজের বিশেষ একটি অংশের জন্য স্পর্শকাতর—এই অভিযোগে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড। ব্যাপক জনরোষ ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমর্থনের পর সিনেমাটি ‘অ্যাডাল্ট (এ)’ সার্টিফিকেট পায়। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন—কঙ্কনা সেন শর্মা, রত্না পাঠক শাহ, সুশান্ত সিং, বিক্রান্ত, শশাঙ্ক আরোরা প্রমুখ।
ওয়াটার
দীপা মেহতা পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘ওয়াটার’। বেনারসের কিছু আশ্রমে বসবাসরত বিধবা নারীদের অসহায়ত্ব ও সামাজিক প্রথা নিয়ে সমালোচনা করে সিনেমাটি। এ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়। শুটিংয়ের সময়ে সিনেমাটির সেট পর্যন্ত ভেঙে দেয়। প্রতিবাদের মুখে পড়ে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বিতর্ক কমে এলে প্রথমে আন্তর্জাতিকভাবে সিনেমাটি মুক্তি দেন নির্মাতারা। আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তির দুই বছর পর অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৯ মার্চ ভারতে মুক্তি পায় এটি। ৭৯তম অস্কারে সিনেমাটি মনোনয়ন পেয়েছিল। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন—সীমা বিশ্বাস, লিসা রায়, জন আব্রাহাম প্রমুখ।
পারজানিয়া
রাহুল ঢোলাকিয়া নির্মিত সিনেমা ‘পারজানিয়া’। এ সিনেমার গল্প গড়ে উঠে রূপা মোদিকে কেন্দ্র করে। ২০০২ সালে গুজরাটের দাঙ্গায় রূপা তার দশ বছরের পুত্রকে হারিয়ে ফেলে। বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমাটি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সংবেদনশীল বিষয়বস্তু উপস্থাপনের কারণে ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের চক্ষুশূল হয় এটি। ফলে প্রেক্ষাগৃহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০৫ সালে গোয়াতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সিনেমাটি ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অনুমতি দেয় সেন্সর বোর্ড। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—নাসিরুদ্দিন শাহ, সারিকা, পারজান দাস্তুর প্রমুখ।
সিনস
বিনোদ পান্ডে নির্মিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘সিনস’। ক্যাথলিক পাদ্রি এক তরুণীর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার গল্প নিয়ে সিনেমাটির কাহিনি এগিয়েছে। গল্পের প্রয়োজনে তরুণীর সঙ্গে পাদ্রির যৌন সম্পর্ক দেখিয়েছেন নির্মাতা। যৌন হয়রানি ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পুরোহিতকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাছাড়া সিনেমাটিতে টপলেস দৃশ্যও রয়েছে। ফলে ক্যাথলিক মতবাদকে নেতিবাচক ও অশালীনভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে ক্যাথলিক সেকুলার ফোরাম। কেবল তাই নয়, এ নিয়ে মামলাও দায়ের করে। নগ্নতার কারণ দেখিয়ে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে সেন্সর বোর্ড; যদিও পরবর্তীতে সিনেমাটিকে ‘অ্যাডাল্ট (এ)’ সার্টিফিকেট দেয়। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন—শিনে আহুজা, সীমা রাহমানি, নীতেশ পান্ডে, বিবেক মিশ্রা প্রমুখ।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে
১৯৯৩ সালের ৯ মার্চ ভারতের মুম্বাইয়ে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয় ‘ব্ল্যাক ফাইডে’ সিনেমা। এটি পরিচালনা করেন বিতর্কিত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। ২০০৪ সালে লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। ২০০৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভারতে মুক্তির দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু সিনেমাটির মুক্তি ঠেকাতে আদালতে মামলা দায়ের হয়। বম্বে হাইকোর্ট মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। ২০০৬ সালে রায় ঘোষণার পরই আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—পবন মালহোত্রা, কে কে মেনন, জাকির হোসেন, মুরালি শর্মা প্রমুখ।
*টাইমস নাউ অবলম্বনে
ঢাকা/শান্ত