টাঙ্গাইলে তিন আইনজীবীকে বার সমিতি থেকে অব্যাহিত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাল-জালিয়াতি ও নৈতিকস্খলনের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে অব্যাহিত এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই টাঙ্গাইল জজ কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী।
তাদের এই অব্যাহিত সংক্রান্ত পত্রে স্বাক্ষর করেন বার সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. রফিকুল ইসলাম রতন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত আইনজীবীদের লিখিত পত্রের মাধ্যমে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
অব্যাহিত পাওয়া আইনজীবীরা হলেন, এস. এম. পারভেজ শিমুল, শুকুম উদ্দিন এবং রাসেল রানা। আর বজলুর রহমান মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে।
এস. এম. পারভেজ শিমুলকে ২১ দিনের জন্য, শুকুম উদ্দিন এবং রাসেল রানাকে ১৫ দিনের জন্য সাময়িকভাবে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বরাবরে ইস্যুকৃত পত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ জুন বাদী পক্ষের আইনজীবী এস. এম. পারভেজ শিমুল নাগরপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত মামলা এফআইআর হিসেবে নেওয়ার জন্য নাগরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে তিনি আসামি পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মহির উদ্দিনের সহযোগিতায় দুইজন আসামির নাম বাদ দিয়ে আরজির প্রথম পাতায় আটজন আসামির নাম রেখে বাদীর স্বাক্ষর জাল করেন এবং তাতে আদালতের সিলমোহর ব্যবহার করেন। বিষয়টি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে এলে তিনি বার সমিতিকে অবহিত করেন। পরে তদন্ত শেষে বার সমিতি তাকে ২১ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।
আইনজীবী রাসেল রানা ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর এবং শুকুম উদ্দিন ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে নিজেরা স্বাক্ষর না করে তাদের মহুরী দিয়ে ওকালতনামা ও জামিনের দরখাস্তে স্বাক্ষর করিয়ে আদালতে দাখিল করেন। বিষয়টি বার সমিতির নজরে এলে তাদের শোকজ করা হয়। তবে তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় কার্যনির্বাহী পরিষদ তাদের সাময়িকভাবে অব্যাহিত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনজীবী বজলুর রহমান মিয়াকে পত্র প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— বিগত ১৯৮৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল এডভোকেট বার সমিতিতে যোগদান করেন। একইসঙ্গে তিনি ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর বাসাইল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করে বিগত ২০০০ সালের ৬ জুলাই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। তিনি আইন পেশার পাশাপাশি চাকরি করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন ও বার সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি কাজ করেছেন।
ঢাকা/কাওছার/বকুল