ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হান্নান মাসউদ

‘রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:৫০, ১ মে ২০২৬
‘রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না’

মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজনে সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল হান্নান মাসউদ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, বারবার রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন হয় কিন্তু শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। ক্ষমতার পরিবর্তন হলে রাজনীতিবিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, শ্রমিকের ভাগ্যে যা তাই থাকে।

শুক্রবার (১ মে) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এনসিপির শ্রমিক উইং জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজনে এক সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, ‘‘আজকে এখানে অনেকেই বলেছেন এই সংসদে শ্রমিক প্রতিনিধি নেই। আমি মনে করি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি শ্রমিক প্রতিনিধি এই সংসদেই আছে। আমাদের সামনে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব, উনি একজন কৃষকের সন্তান, আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান উনি একজন শ্রমিকের সন্তান, আমাদের এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজমিস্ত্রীর সন্তান, আমিও শ্রমিক পরিবার থেকে এসেছি। আমরা সেই পরিবার থেকে এসে আজকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি।’’ 

‘‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কায়িক শ্রম দিয়ে আমাদের এই দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। আমাদের এই দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। যেটা সারা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ থেকে ১৭%। কিন্তু দেখেন এই ১৭% জনসংখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক রপ্তানি অর্থনীতির ৮০% দখল করে রেখেছে। ৮০% আয় হয় মাত্র এই ৪০ লাখ শ্রমিকদের রক্ত আর ঘামে। কিন্তু সেই শ্রমিকদের ঘরে থাকার জায়গা নেই। রান্না করার পাত্র নেই। তাদের নিয়মিত দৈনন্দিন চাল কেনার টাকা নেই।’’

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল জীবিকা শক্তি প্রবাসী আয় উল্লেখ করে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘এক কোটি মানুষ বাবা-মা ছেড়ে, পরিবার পরিজন ছেড়ে, আত্মীয়স্বজন ছেড়ে, জম্মভূমি ছেড়ে সুদূর সেই মধ্যপ্রাচ্য কিংবা পশ্চিমা বিশ্বে গিয়ে  শ্রম দেয়। তারা টাকা পাঠায় আর আমার এই দেশের দুর্নীতিবাজরা লুটপাট করে খায়। এবং সেই দুর্নীতিবাজরাই আবার সংসদে গিয়ে বড় বড় কথা বলে।’’ 

‘‘আমি বলি, এই সভ্যতা যদি বাঁচাতে হয়, এই দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, তাহলে আমার এই দেশের সরাসরি কায়িক শ্রমিকের সঙ্গে জড়িত ৬৫% থেকে ৭০% মানুষকে মর্যাদা দিতে হবে। আমি মর্যাদার কথা বলছি। আমি বলছি না ৩০ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। আমি বলছি না ৫০ হাজার টাকা ঋণ দিতে হবে। আমি বলছি মর্যাদা দিতে হবে। আমাদের শ্রমিকরা যেরকম শ্রম দেবে সেভাবে মর্যাদা অনুযায়ী তাদেরকে সেভাবে পারিশ্রমিক দিতে হবে। আমরা তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা ভিক্ষা চাই না। আমরা বলি আট ঘণ্টা পরিশ্রম দিয়ে আপনি কী রকম বেতন পান আর আমরা কী রকম। আমাদের শ্রমিকেরা কী রকম বেতন পায় সেটা আগে নির্ধারণ করেন,’’ যোগ করেন তিনি। 

হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ‘‘পোশাক শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে? একজন পোশাক ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। সরকার শুধু ব্যাংক মালিক, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস মালিকদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে গবেষণা করে। দেশের ৪০ লাখ শ্রমিককে নিয়ে তাদের কোনো গবেষণা নেই।’’

ঢাকা/রায়হান//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়