বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর দাবি বিএসআরএফের
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও দাম বৃদ্ধির জন্য কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরাএফ এর যৌথ আয়োজনে ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম কেবল বাড়ালেই হবে না, বরং তা অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে হবে।”
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান।
তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতি কমাতে তামাক খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে জনস্বাস্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তামাকপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামের তারতম্য তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৮৮.৯৭ শতাংশ, আলুর দাম বেড়েছে ৮৬.৫৮ শতাংশ, আটার দাম বেড়েছে ৭৫.০৯ শতাংশ অন্যদিকে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১৫.৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬.৩৫ শতাংশ, প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১১.১১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের সেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরো সস্তা হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ-এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম- এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে এই নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা, ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক জানান, বাজেটের আগে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কোম্পানিগুলো ‘চোরাচালান বাড়বে' বলে যে প্রচার চালায়, তা একটি ভিত্তিহীন গুজব। বাস্তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম হওয়ায় চোরাচালানের কোনো সুযোগ নেই। তামাক কোম্পানিগুলোর এমন কূটকৌশল, রাজস্ব ক্ষতির ভয় এবং জাল পণ্যের গুজব প্রতিরোধে ফোরাম সংবাদমাধ্যমে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।
সভায় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের ইসি কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/এসবি