মৌলভীবাজারে চা শ্রমিকেরা কাটছেন হাওরের ধান
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরে চলতি মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে ধান কাটতে এগিয়ে এসেছেন চা শ্রমিকেরা। এ উদ্যোগ নিয়েছে জেলার রাজনগর উপজেলা প্রশাসন।
রাজনগর কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টি ও আগাম বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছিলেন না। এছাড়াও জ্বালানি তেলের সংকটে ধান মাড়াই ও কাটার কাজ ঠিকমত করতে পারেননি অনেকে। এমন অবস্থায় রাজনগর উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে আশপাশের চা বাগানের ব্যবস্থাপকদের সাথে কথা বলে ধান উঠানোর কাজের জন্য চা শ্রমিকদের সহায়তা কামরা করেন। পরে চা শ্রমিকেরা দলবদ্ধভাবে হাওরে গিয়ে ধান কাটার কাজে যোগ দেন।
কাউয়াদিঘি হাওর পারের মোজেফরপুর গ্রামের কৃষক মেহদী হাসান ও সিতাব আলী বলেন, চা শ্রমিকদের এই সহযোগিতা না পেলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। অনেকেই ইতোমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাজনগরের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এই সহযোগিতায় অন্তত কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে তারা জানান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কাউয়াদিঘি হাওরের বেতাহুঞ্জা, মোজেফরপুর, অন্তেহরি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে চা শ্রমিকেরা কৃষকের ধান কাটছেন।
ধান কাটতে আসা রাজনগর ইটা চা বাগানের শ্রমিক শ্রীকুমার দেশওয়ালী বলেন, “আমরাও শ্রমিক, কৃষকদের কষ্ট বুঝি। তাই নিজেদের কাজ শেষ করে এখানে এসে সাহায্য করছি। এতে কিছু বাড়তি আয়ও হচ্ছে।”
অন্তেহরি গ্রামের রিপন দাশ বলেন, ‘‘চা শ্রমিকরা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এতে কৃষক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবে।’’
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল আমিন বলেন, ‘‘পাম্প হাউজ পানি সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তবে বিদ্যুতের লোড শেডিং ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হাওরের অতিরিক্ত পানি দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।’’
ঢাকা/আজিজ//