রাঙামাটিতে ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তর নিয়ে অচলাবস্থা, ময়লার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস
রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ময়লার স্তূপ জমে রাঙামাটি শহরে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।
ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তরের দাবিতে এলাকাবাসীর বাধার মুখে গত তিন দিন ধরে রাঙামাটির পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী রাঙামাটি ধীরে ধীরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
শহরের প্রবেশমুখ ভেদভেদি রেডিও স্টেশন এলাকার পাশে অবস্থিত ডাম্পিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জন্য ভোগান্তির কারণ। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসী বহুদিন ধরে এটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে অন্তত দুইবার মানববন্ধনও করেছে তারা।
তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বাঁশ দিয়ে সেখানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে, যাতে কোনোভাবেই ময়লার গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চলছে। প্রশাসন সময় চেয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী।
এলাকার বাসিন্দা সুরত আলী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিং স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে নেবে— এমন আশ্বাস দিলেও তারা এটি বাস্তবায়ন করছে না। এলাকায় যারা বসবাস করছে, তারা বাসাবাড়িতে দুর্গন্ধের জন্য থাকতে পারে না। মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এবার আমরা আর কোনো কথা শুনবো না। এবার ডাম্পিং স্টেশন সরিয়ে নিতে হবে।’’
এদিকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে না পারায় শহরে ময়লা জমে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড়, মাঝারি ও ছোট প্রায় সব ডাস্টবিন ময়লায় উপচে পড়ছে। কোথাও কোথাও ডাস্টবিনের বাইরেও আবর্জনার স্তুপ ছড়িয়ে আছে। খাবারের সন্ধানে ভাসমান গরু ও কুকুর এসব ময়লা টেনে এনে সড়কে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে ময়লা ফেলতে না পারায় রাঙামাটি পৌরসভার গাড়িগুলো ময়লা সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে নিতে না পেরে পৌরসভা প্রাঙ্গণে জমা করে রাখছে। এতে করে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
রাঙামাটি পৌরসভার প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘‘আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করছি। এতে পৌরবাসীর সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। আশা করছি, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।’’
ঢাকা/শংকর/বকুল