ঢাকা     বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পৃথিবীর ৯০ শতাংশ মানুষ কেন ডানহাতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
পৃথিবীর ৯০ শতাংশ মানুষ কেন ডানহাতি

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই ডানহাতি। বাঁহাতিরাও আছেন, তবে তাদের সংখ্যা মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। আর খুব অল্প কিছু মানুষ আছেন, যারা দুই হাতই সমান দক্ষতায় ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মানুষ কেন এক হাতকে অন্যটির চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়?

সমাজের প্রভাব, নাকি জন্মগত বৈশিষ্ট্য?
মানুষের হাত ব্যবহারের পেছনে পরিবেশের কিছু প্রভাব অবশ্যই আছে। পৃথিবীর অনেক সমাজে—বিশেষ করে কিছু এশীয়, আরব ও আফ্রিকান সংস্কৃতিতে—বাঁ হাতকে “অপরিষ্কার” হিসেবে দেখা হয়। ফলে ছোটবেলা থেকেই অনেক শিশুকে ডান হাতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। এমন সমাজেও, যেখানে বাঁহাতি হওয়া নিয়ে কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই, সেখানেও বাঁহাতির সংখ্যা কমই থাকে।

আরো পড়ুন:

বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন—বিষয়টি শুধু সামাজিক নয়, এর পেছনে গভীর জৈবিক কারণও রয়েছে।
গবেষণা বলছে, মানুষের হাতের প্রাধান্য শুরু হয় জন্মের আগেই, মায়ের গর্ভে।গর্ভধারণের প্রায় ১০ম সপ্তাহ থেকেই ভ্রূণ ডান হাত বেশি নাড়াতে শুরু করে। ১৫তম সপ্তাহে দেখা যায়, অধিকাংশ ভ্রূণ ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি চুষছে 

এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয়—ডানহাতি হওয়া যেন মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের জিন মস্তিষ্ককে এমনভাবে গড়ে তোলে, যাতে ডান হাত ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
তাহলে বাঁহাতিরা কোথা থেকে আসে?

যদি ডান হাতই ‘ডিফল্ট’ হয়, তাহলে বাঁহাতি মানুষ কেন আছে? এর উত্তরটা বেশ চমকপ্রদ। গবেষকদের মতে, বাঁহাতি হওয়া অনেক সময় ঘটে মস্তিষ্কের বিকাশের সময় ছোটখাটো এলোমেলো পরিবর্তনের কারণে।

অর্থাৎ—জিন সরাসরি বাঁহাতি বানায় না বরং ভ্রূণের মস্তিষ্ক গঠনের সময় সামান্য পরিবর্তনই নির্ধারণ করে দেয় আপনি কোন হাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

ইতিহাস বলছে, মানুষের ডান হাতের প্রতি ঝোঁক নতুন কিছু নয়। প্রায় ৫ লাখ বছর আগেও মানুষ ডান হাতে বেশি দক্ষতার সঙ্গে হাতিয়ার ব্যবহার করত।

একটি তত্ত্ব বলছে— ডানহাতি হওয়া যুদ্ধের সময় একটি বাড়তি সুবিধা দিত। কারণ ডান হাতে আক্রমণ করলে প্রতিপক্ষের বাম বক্ষদেশে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি—যেখানে হৃদপিণ্ড থাকে। ফলে ডানহাতিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বৈশিষ্ট্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বাঁহাতিরা কম হওয়ায়—তাদের চলাফেরা ও আক্রমণ সহজে অনুমান করা যায় না এবং খেলাধুলা বা লড়াইয়ে তারা প্রায়ই প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে।  বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডানহাতি ও বাঁহাতিদের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। 

মানুষের এক হাতে বেশি নির্ভর করার গল্পটি আসলে একাধিক কারণের মিশ্রণ— জিন, মস্তিষ্কের বিকাশ, সমাজ, এমনকি হাজার বছরের বিবর্তন। ডানহাতি হওয়া যেন আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা, কিন্তু বাঁহাতিরা সেই নিয়মের ব্যতিক্রম—আর সেই ব্যতিক্রমই মানবজাতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

সূত্র: পপুলার সায়েন্স

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়