একই মেয়েকে ভালোবাসায় ছোট ভাইকে হত্যা, নাটক সাজাতে বাবাকেও খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম
গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান সোহান। ফাইল ফটো
গাজীপুরের টঙ্গীতে একই মেয়েকে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠছে বড়ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে বাবাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বড়ভাই সাইফুর রহমান সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গাজীপুর চিফ জুডিশিয়ার মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাইফুর রহমান সোহান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজিদ নেওয়াজ রাইজিংবিডি ডটকমকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, শনিবার মধ্যরাতে গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর বনমালা এলাকার মোস্তফা দর্জির ছেলে মো. সোহেল হোসেন (৫২) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৮)।
নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরায় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেঁজগাওয়ে বেঙ্গল ফুড নামে একটি দোকানে চাকরিও করতেন। গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর পর থেকে বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন। এরই মধ্যে তিনি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় ছেলেরা তার বাবাকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় রাস্তা থেকে বাসায় নিয়ে আসতেন। তাদের এক অত্মীয়ের মেয়ের সঙ্গে দুই ভাই প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েন। এটা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তারই জেরে শনিবার মধ্যরাতে সাইফুর এক সহযোগীকে নিয়ে তার ছোট ভাই সাকিবুর রহমান শোয়েবের মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেয়, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। পরে তার দুই হাতের রগ কেটে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নাটক সাজান বড় ভাই। তার নেশাগ্রস্থ বাবার কাঁধে দায় চাপাতে তাকে বাড়ি থেকে দুই-তিনশ ফিট দূরে রেললাইনে ফেলে দেয়। সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। পরে সাইফুর রহমান স্বজনদের ফোন করে জানান, তার ছোট ভাইকে হত্যা করে তার বাবা রেললাইনে আত্নহত্যা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজিদ নেওয়াজ বলেন, “নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। ঘটনার পর একটি সিটিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়। সেখানে সোহেলকে তার বড় ছেলে সোহান ধরে নিয়ে রেললাইনে দিকে যেতে দেখা যায়। সেখান থেকে সন্দেহ হওয়ায় বড় ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে সোমবার গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তীমূলক জাবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।”
ঢাকা/রেজাউল/ইভা
রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা ইরানের