ইরানের তেলের পাইপলাইন বিস্ফোরণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অতিরঞ্জিত
২০১৭ সালের ছবিতে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল
ইরানের তেল পাইপলাইনগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে বিস্ফোরিত হতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে অতিরঞ্জিত ও প্রযুক্তিগতভাবে ভুল বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর সিএনএনের।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’-এ দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যখন আপনার সিস্টেমে বিশাল পরিমাণে তেল প্রবাহিত হয় এবং কোনো কারণে যদি সেই লাইনটি বন্ধ হয়ে যায় কারণ আপনি সেগুলো আর কন্টেইনার বা জাহাজে ভরতে পারছেন না- যা তাদের (ইরানের) ক্ষেত্রে ঘটেছে; মার্কিন অবরোধের কারণে তাদের কোনো জাহাজ নেই- তখন যা ঘটে তা হলো, সেই লাইনটি যান্ত্রিকভাবে এবং মাটির ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হয়।”
ট্রাম্প আরো যোগ করেন, “এটি এমন কিছু যা এমনিতেই ঘটে, স্রেফ বিস্ফোরিত হয়। আর তারা বলছে এটি ঘটার জন্য তাদের কাছে মাত্র তিন দিন সময় আছে। আর যখন এটি বিস্ফোরিত হবে, তখন আপনি এটিকে আর আগের মতো করে পুনর্নির্মাণ করতে পারবেন না।”
তবে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিএনএন-এর সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো দেশ রপ্তানি বন্ধ করলে তেল ক্ষেত্র বা পাইপলাইন স্রেফ ‘বিস্ফোরিত’ হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তেল স্থাপনাগুলো বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ সেগুলোর অনেকগুলোই ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি লিপো জানান, যখন তেল রাখার মতো কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার পাওয়া যায় না, তখন উপকূলীয় স্টোরেজগুলো পূর্ণ হতে থাকে। স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশ তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা কূপগুলো বন্ধ করে দেয়।
ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সম্প্রতি এসব দেশেও রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।
তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, কূপগুলো বন্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে যখন সেগুলো আবার খোলা হবে, তখন তেল উৎপাদন কমে যেতে পারে। কিন্তু তেলের পাইপলাইন কোনোভাবেই বিস্ফোরিত হবে না তিনি জানান।
ঢাকা/ফিরোজ