কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে এসি-টিভি গায়েব
লালমনিরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে সরকারি এসি ও টিভি রহস্যজনকভাবে গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুজ্জামান আহমেদ শপথের পর তার কার্যালয়কে সরকারি অর্থে সুসজ্জিত করেন। ওই কক্ষে রাখা হয় স্যামসাং ব্র্যান্ডের দুটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি), একটি বড় টিভি ও দামি সোফাসহ কিছু আসবাবপত্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সেই কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল।
সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি অফিস কক্ষ প্রস্তুত রাখতে সব ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষটি সংসদ সদস্যের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিদর্শনে যাওয়া হয়। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে এসি, টিভি ও সোফা গায়েব। এরপরই সমালোচনা শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের একজন কর্মচারী বলেন, “এসব চুরি হয়নি। দুটি এসির একটি ইউএনওর বাসায় আর অপরটি তার অফিসে সংযোগ করা হয়েছে। বর্তমান ইউএনও যোগদানের পূর্বেই ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি অফিশিয়ালভাবে করা হলেও সাধারণ মানুষের অগোচরে হওয়ায় চুরির গুজব ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, “এসির বিষয়টি ফেসবুকে জেনেছি। অফিশিয়ালভাবে কেউ জানায়নি।”
অফিসের এসি বাসায় লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি হওয়ার কথা নয়।”
এর আগে, গত বুধবার ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান চাপারহাট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে আসা নদী চন্দ্র রায় নামে এক গ্যারেজ মেকানিককে লাঞ্ছিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না পাওয়ায় তিনি ওই যুবককে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারেন। এর আগের দিন তাকে হাতে লাঠি নিয়ে তুষভাণ্ডার এলাকায় তেল সরবরাহের তদারকি করতে দেখা যায়।
ঢাকা/সিপন/মাসুদ