ওয়াশিংটনে প্রেস ডিনারে গুলি, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে প্রেস ডিনার অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় ট্রাম্প সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। হামলার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে। খবর এনবিসি নিউজের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে যখন অনুষ্ঠান চলছিল, তখন হঠাৎ মূল প্রবেশপথের সিকিউরিটি স্ক্রিনিং এলাকার কাছে গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, একাধিক বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত অস্ত্র হাতে কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিসহ অন্যান্য ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
সিএনএনের সাংবাদিক উলফ ব্লিৎজার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি খুব কাছ থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশ আমাকে মেঝেতে শুইয়ে দেয়। বন্দুকধারী আমার খুব কাছেই ছিল।”
এ ঘটনার পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে সিক্রেট সার্ভিসের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “সিক্রেট সার্ভিস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চমৎকার কাজ করেছে। বন্দুকধারী আটক হয়েছে। আমি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, সব সিদ্ধান্ত আইন রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”
তার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প শিগগির হোয়াইট হাউজের ব্রিফিং রুম থেকে একটি বিবৃতি দেবেন।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই বার্ষিক নৈশভোজ হোয়াইট হাউজের সংবাদ কভার করা সাংবাদিকদের একটি সংস্থা আয়োজন করে থাকে। সাংবাদিকদের এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের ঘনঘন ব্যক্তিগত আক্রমণের কারণে এই অনুষ্ঠানে তার আমন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক ছিল।
এই হিলটন হোটেলেই ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ দুপুরে আরেকজন প্রেসিডেন্টের ওপর হামলা হয়েছিল। সে সময় জন হিঙ্কলে নামক এক বন্দুকধারী প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় গুলি করে আহত করেছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসার পর রিগান সুস্থ হয়ে ওঠেন। রিগানের প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডিও সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।
বন্দুকধারীর উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়, তবে যদি বন্দুকধারীর লক্ষ্য ট্রাম্প হয়ে থাকেন, তবে এটি হবে তার জীবনের ওপর তৃতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা।
২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলার-এ একটি নির্বাচনি সমাবেশের সময় ট্রাম্পের ওপর এক হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যাতে তিনি আহত হন। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাড়ির কাছ থেকে আরেকজন সন্দেহভাজন ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ঢাকা/ফিরোজ