ঢাকা     রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩ || ৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৭, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১০:৪০, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ফাইল ফটো

কক্সবাজার জেলাজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাতজুড়ে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সবাই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

আরো পড়ুন:

কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সাজেদুল করিম বলেন, “দিনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে দোকানের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ক্রেতারাও বিরক্ত হয়ে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

কক্সবাজারের লারপাড়ার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, “সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে বসলেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো কাজই ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না।”

উখিয়ার ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, “আধা ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিদিন ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতেও পারছি না। বিতরণ বিভাগ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে অন্তত বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করত, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”

কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। মোমবাতি বা চার্জলাইটে পড়া খুব কষ্টকর। সামনে পরীক্ষা, কিন্তু প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে পারছি না।” 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জরুরি চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটে, এতে রোগীদের ঝুঁকি বাড়ে।”

পর্যটননির্ভর এই জেলায় বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়েও। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটকরা অস্বস্তিতে পড়ছেন। জেনারেটর থাকলেও সবসময় পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয় না। লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং বুকিং কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

গৃহিণী সুমি ইসলাম বলেন, “ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রান্না-বান্না থেকে শুরু করে বাচ্চাদের দেখাশোনা সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

শ্রমজীবী আবদুল খালেক বলেন, “দিনে কাজ করে রাতে একটু বিশ্রাম নিতে চাই। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।”

এছাড়া অনলাইনভিত্তিক পেশায় যুক্ত ফ্রিল্যান্সার কায়সারুল হাসান বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় কাজ জমে যাচ্ছে। ক্লায়েন্টদের সময়মতো কাজ দিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।”

শুধু শহর নয়, জেলার টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও একই চিত্র বিরাজ করছে। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

এদিকে, পরিস্থিতির উন্নতি চেয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি জানান, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি থাকে না। তবে হঠাৎ কোথাও প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে বা চাহিদা বেড়ে গেলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।

এ কর্মকর্তা বলেন, “সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”

ঢাকা/তারেকুর/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়