ঢাকা     শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩৩ || ৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ল ধান, টাঙ্গাইলে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ২৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১২:০২, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ল ধান, টাঙ্গাইলে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

ধান ক্ষেতের পাশে ইটভাটা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সিংগুড়িয়া গ্রামে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে অন্তত চারটি ইটভাটা। সম্প্রতি ‘সিয়াম’ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শত বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

তাদের দাবি, ধান পুড়ে তাদের অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পেলে অনেককে অর্ধহারে-অনাহারে দিন পার করতে হবে। তবে, এ বিষয়ে কথা বলেনি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন:

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার দুপুরে সিংগুড়িয়া গ্রামের সিয়াম ইটভাটা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। এতে আশপাশের অন্তত ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সিংগুড়িয়া গ্রামের কৃষকরা জানান, ক্ষেতে থাকা ধানে শীষ বের হয়েছিল। কোন ক্ষেতে এক সপ্তাহ পর, আবার কোথাও দুই সপ্তাহ পর ধান কাটা শুরু কারার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। স্বপ্ন দেখেছিলেন, সোনালী ধানে গোলা ভরবে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমির কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তারপরও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে প্রতিবছরই ক্ষেতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সিয়াম ইটভাটার কারণে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবার।” 

লিয়াকত তালুকদার নামে অপর এক কৃষক বলেন, “অনেকেই ঋণ করে বোরো চাষ করেছেন। সবার স্বপ্ন ছিল ভালো ফলন পাবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়েছে। শুধু ধানই পুড়ে যায়নি, খড়ও নষ্ট হয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় ক্ষতিপূরণ চাই।”

এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক শহিদুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। বক্তব্য চাইলে তিনি মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, “বনভূমি উজার করে ইটভাটা পরিচালনা করার ফলে কার্বনডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্টসহ পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে বাধার সৃষ্টি করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইটভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কোন সুরাহা পায় না প্রান্তিক কৃষকরা।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, “কৃষকদের অন্তত ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দফা মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে।” কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পেতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান জানান, “বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পাল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। রবিবার অফিসে গিয়ে উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/কাওছার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়