ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি লম্বা হয় কেন?

সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২২, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:৩৫, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি লম্বা হয় কেন?

সাধারণত নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি লম্বা হয়। কিন্তু কেন?—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, মানুষের জৈবিক, জিনগত এবং সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিশ্বজুড়েই দেখা যায়, গড়ে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ৯ শতাংশ বেশি লম্বা। অনেক ক্ষেত্রে এই পার্থক্য প্রায় ৫ ইঞ্চি বা ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও ব্যতিক্রম রয়েছে, তবুও এই সাধারণ প্রবণতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে।

প্রথমত, হরমোনের প্রভাব এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষের উচ্চতা মূলত নির্ভর করে কঙ্কালের বৃদ্ধির ওপর, আর এই বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয় বিভিন্ন হরমোনের মাধ্যমে। কিশোর বয়সে মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়, বিশেষ করে ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর। এই ইস্ট্রোজেন হাড়ের গ্রোথ প্লেট দ্রুত বন্ধ করে দেয়, ফলে মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে দ্রুত থেমে যায়।

আরো পড়ুন:

অন্যদিকে, ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে, যা হাড় ও পেশির বৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেরা সাধারণত উচ্চতায় আরও বেশি বাড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, জিনগত কারণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে, যার মধ্যে একটি জোড়া নির্ধারণ করে লিঙ্গ। নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্রোমোজোম হলো XX, এক্ষেত্রে পুরুষেরা ব্যতিক্রম। পুরুষদের ক্ষেত্রে থাকে XY ক্রোমোজোম। এই ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে SHOX (Short Stature Homeobox) নামে একটি জিন রয়েছে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

নারীদের ক্ষেত্রে এই জিন মূলত একটি X ক্রোমোজোমে সক্রিয় থাকে, অন্যটি তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর থাকে। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে X এবং Y—উভয় ক্রোমোজোমেই SHOX জিন সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে তাদের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।

তৃতীয়ত, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রভাবও একে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। প্রাচীনকালে পুরুষরা শিকার, যুদ্ধ ও কঠিন শারীরিক কাজে বেশি যুক্ত ছিল। ফলে শক্তি ও উচ্চতা তখন বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল। যে পুরুষেরা বেশি লম্বা ও সবল ছিল, তারা শারীরিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পেরেছে এবং বংশবিস্তারেও এগিয়ে ছিল।

প্রাচীন সমাজেও পুরুষদের খাদ্য, পুষ্টি ও শারীরিক যত্নের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা তাদের শারীরিক বিকাশে সহায়ক হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে লম্বা পুরুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পুরুষের নারীর চেয়ে বেশি লম্বা হওয়ার বিষয়টি একক কোনো কারণে নয়, বরং হরমোন, জিন এবং সামাজিক-ঐতিহাসিক প্রভাবের সম্মিলিত ফল। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা স্বাভাবিক। অনেক নারীও লম্বায় অনেক পুরুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়