স্মার্টফোন পুরুষের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি করছে
স্মার্টফোন ছাড়া আধুনিক জীবন ও যোগাযোগ প্রায় অচল। সময় ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা যত স্মার্ট হচ্ছি, ততই বাড়ছে ফোনের ওপর নির্ভরতা। স্ক্রিনটাইম যে শরীরের ক্ষতি করছে—এ কথা জানা থাকলেও অনেকেই তা কমাতে পারছেন না। কাজ হোক বা অকাজ, দীর্ঘ সময় ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে থাকা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস।
তবে চমকে ওঠার মতো খবর হলো গবেষণা বলছে, শুধু ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকাই নয়—প্যান্টের সামনের পকেটে দীর্ঘক্ষণ ফোন রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অনেক পুরুষ হার্ট বা ফুসফুসের কাছাকাছি ফোন রাখতে না চেয়ে পকেটে রাখেন। কিন্তু এতে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এভাবে ফোন রাখেন, তাদের শুক্রাণুর সংখ্যা এবং সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
মোবাইল ফোন কীভাবে ক্ষতি করছে?
গবেষকরা মূলত দুটি কারণ তুলে ধরেছেন—
১. রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন
মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে ক্রমাগত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ নির্গত হয়। অণ্ডকোষের কাছাকাছি দীর্ঘ সময় এই বিকিরণের প্রভাব পড়লে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। ফলে শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গুণমান কমে যায়।
২. তাপ বা হিট এক্সপোজার
শুক্রাণু তৈরির জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ২–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু পকেটে ফোন রাখলে ওই অংশের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি ‘স্পার্মাটোজেনেসিস’ বা শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এটি কি স্থায়ী ক্ষতি?
চিকিৎসকদের মতে, এই ক্ষতি সাধারণত স্থায়ী নয়। পুরুষদের শরীরে প্রায় প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন করে শুক্রাণু তৈরি হয়। তাই অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সতর্ক থাকার উপায়
• প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখা এড়িয়ে চলুন; ব্যাগ বা জ্যাকেটের পকেটে রাখুন
• সম্ভব হলে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখুন
• অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন
• ল্যাপটপ সরাসরি কোলের উপর না রেখে টেবিলে ব্যবহার করুন
• ধূমপান, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুলুন
স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও সচেতন ব্যবহারই পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে।
সূত্র: এই সময়
ঢাকা/লিপি
ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প