আজ বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস তাই এক বিশেষ দিন। ছবি: সংগৃহীত
যিনি বই ভালোবাসেন তিনি বইয়ের পাতায় অক্ষরে অক্ষরে ডুবে যেতে পারেন। বই পড়ুয়াদের থাকে আলাদা জগৎ। আপনি কি কখনও এমন কোনো বইয়ে ডুবে গিয়েছেন? যেখানে হারিয়ে গিয়ে নিজের আত্মারই এক টুকরো খুঁজে পেয়েছেন? কল্পনা করুন—একটি বইয়ের পাতায় ডুব দিলে আপনি পৌঁছে যাচ্ছেন অন্য এক জগতে, পরিচিত হচ্ছেন এমন সব চরিত্রের সঙ্গে, যারা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অনেক অনেক চেনা বন্ধু। একটি বইয়ের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সঙ্গে আসে নতুন কোনো অভিযান, নতুন কোনো শিক্ষা—যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেয়, পৃথিবীকে দেখার চোখকে করে আরও বিস্তৃত।
আপনি জানেন? ২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস? আজ কিন্তু সেই দিন। বিশ্বের ১০০টি দেশে দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে। আপনিও পালন করতে পারেন দিবসটি। এই দিনটি আপনি নানা আনন্দময় ও অর্থবহ উপায়ে উদযাপন করতে পারেন—
বইপাঠ ক্লাব শুরু বা যোগদান করুন
আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বুক ক্লাব শুরু করতে পারেন, কিংবা কোনো বিদ্যমান ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। এর ফলে নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে।
বই দান করুন
আপনার পড়া শেষ হয়ে যাওয়া বইগুলো লাইব্রেরি, স্কুল বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে পারেন। এতে অন্যরাও পড়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।
পাঠ চ্যালেঞ্জে অংশ নিন
আপনি নিজেকে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক বই পড়ার চ্যালেঞ্জ দিতে পারেন—এটি আপনার পাঠাভ্যাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
স্বাধীন বইয়ের দোকানকে সমর্থন করুন
বড় বড় বুকশপগুলোতে না গিয়ে আপনি স্থানীয় ছোট বইয়ের দোকান থেকে বই কিনে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এগুলো সাহিত্যচর্চার বৈচিত্র্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনলাইন সাহিত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিন
অনেক বইয়ের দোকান ও সংগঠন ভার্চুয়াল আড্ডা, কবিতা পাঠ, লেখক আলাপের আয়োজন করে—আপনি এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারেন।
ফ্রি ই-বুক খুঁজে বের করুন
এই উপলক্ষে অনেক প্রকাশনা সংস্থা বা বই বিক্রেতা বিনামূল্যে ই-বুক অফার করে—আপনি সহজেই নতুন লেখক ও ভিন্ন ধারার বই আবিষ্কার করতে পারেন।
সৃজনশীল কাজে যুক্ত হোন
আপনি নিজের হাতে বুকমার্ক বানানো বা বই-সম্পর্কিত কারুশিল্প তৈরি করতে পারেন—এটি যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি ব্যবহারিকও।
দিবসটির ইতিহাস
বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবসের ইতিহাস সত্যিই চমকপ্রদ এবং এটি বইয়ের শক্তি ও লেখকদের অধিকারকে সম্মান জানানোর একটি অনন্য উদাহরণ। ১৯২২ সালে স্পেনের বার্সেলোনার একজন প্রকাশক ভিসেন্তে ক্লাভেল আন্দ্রেস প্রস্তাব দেন একটি দিনকে বইয়ের জন্য উৎসর্গ করার—বিশ্বখ্যাত লেখক মিগেল দে সেরভান্তেসকে সম্মান জানাতে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার এই দিবসটি উদযাপিত হয়।
পরবর্তীতে সাহিত্য জগতের আরও কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্ব—যেমন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, মিগেল দে সেরভান্তেস এবং ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগা—এর মৃত্যুদিন স্মরণে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো ২৩ এপ্রিলকে “বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে।
এই দিনটি নির্বাচন করা হয়েছে তার গভীর সাহিত্যিক গুরুত্বের জন্য এবং মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে। একই সঙ্গে এটি লেখকদের সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের কাজের স্বত্বাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই দিবস উপলক্ষে সারা বিশ্বে নানা কর্মসূচি পালিত হয়—বই দান, পাঠ প্রতিযোগিতা, উন্মুক্ত পাঠসভা, কপিরাইট আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি। কখনও কখনও ইউনেস্কো শিশু ও তরুণদের সাহিত্যে সহনশীলতা প্রচারের জন্য বিশেষ পুরস্কারও প্রদান করে।
এছাড়া প্রতি বছর একটি শহরকে “বিশ্ব বই রাজধানী” হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা বৈশ্বিকভাবে সাক্ষরতা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।
সব মিলিয়ে, এই দিনটি শুধু বই বা লেখক উদযাপনের নয়—এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেয়, একটি বই কিভাবে একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে। ব্যক্তিগত বিকাশ, জ্ঞান অর্জন এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদানে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম।
বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস তাই এক বিশেষ দিন—যেখানে বই, লেখক এবং সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা একত্রিত হই, এবং উদযাপন করি জ্ঞানের অশেষ ভাণ্ডারকে।
সূত্র: ন্যাশনালটুডে ডটকম
ঢাকা/লিপি