ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩৩ || ৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল, বিদ্যুৎ আসবে আগস্টে

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৭, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:০৮, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল, বিদ্যুৎ আসবে আগস্টে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এর পর পরীক্ষামূলকভাবে জুলাইয়ের শেষদিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন:

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। এর মাধ্যমেই ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের পথ প্রশস্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সময়স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

তবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফুয়েল লোডিংয়ের সময়েও কিছু পরীক্ষা চলবে। সব পরীক্ষা শেষ করে জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে প্রথম অবস্থায় অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু সমস্যা সামনে চলে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। এখন পজিশন ভালো। সেজন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা সবাই একমত হওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ সফলভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। লিখিত, মৌখিক এবং সিমুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা এ লাইসেন্স পেয়েছেন। এই ৫২ জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ এবং রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরদের সমন্বয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হবে।

তিনি আরো জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে ফাইনাল সেফটি অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। কমিশনিং ধাপটি অত্যন্ত কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়তে থাকবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষ্যে প্রকল্প সাইটের নিকটবর্তী চর সাহাপুরে ২৩ এপ্রিল উঠোন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তিগত দিক ও আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা একটি বড় জাতীয় প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি। 

তিনি গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, তথ্যকেন্দ্র ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Nuclear Power in Bangladesh’ অনুসরণের পরামর্শ দেন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।

ঢাকা/শাহীন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়