৬ মাস পর আপন ঠিকানায় বাক প্রতিবন্ধী মাইদুল
লালমনিরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
লালমনিরহাট রেলস্টেশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা গাজী রমজান আলীর সঙ্গে মাইদুল ইসলাম।
নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পর বাবা-মায়ের কাছে ফিরেছেন বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর মাইদুল ইসলাম (১৫)। লালমনিরহাট রেলস্টেশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা গাজী রমজান আলীর আশ্রয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাইদুল টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদরের মুদি দোকানি জালাল উদ্দিন ও মর্জিনা বেগম দম্পতির মেজো ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছয় মাস আগে পাশ্ববর্তী এলাকায় নানার বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন মাইদুল। ভুলবশত তিনি পথ হারিয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে চলে যান। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিমর্ষ অবস্থায় দেখে তাকে নিজ জিম্মায় নেন রেলওয়ে স্টেশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা গাজী রমজান আলী।
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় মাইদুল নিজের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারছিল না। ইমাম বিষয়টি সদর থানাকে অবগত করেন এবং তার পরিচয় শনাক্তের জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেন। পরিচয় না মেলায় তিনি মাইদুলকে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করতে থাকেন।
দীর্ঘদিন পরিচয় না মেলায় গত বুধবার স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাইদুলের ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেই পোস্টটি মাইদুলের এলাকার এক শিক্ষকের নজরে আসে। এরপর ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাইদুলের দাদা তোলা মিয়া, নানা মকবুল হোসেন, মামা রিপন ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লালমনিরহাটে যান।
বিকেলে লালমনিরহাট রেলস্টেশন এলাকায় পরিবারের সদস্যরা যখন মাইদুলকে দেখতে পান, তখন সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিদুল। স্টেশনের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা, যারা এই কয়েক মাস মাইদুলকে স্নেহ করতেন, তারাও তার বিদায় বেলায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
মাইদুলের মামা রিপন বলেন, “নিখোঁজের পর থেকে আমরা তাকে অনেক জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরিবারের সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিল। আজ আমাদের হারানো সন্তান ফিরে পেয়েছি। যারা এই কয়েকমাস তাকে আগলে রেখেছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”
আশ্রয়দাতা মাওলানা গাজী রমজান আলী বলেন, “মাইদুলকে প্ল্যাটফর্মে অসহায় অবস্থায় দেখে বাসায় নিয়ে আসি। আমার সন্তানদের মতোই তাকে যত্ন করেছি। পরিচয় শনাক্ত করতে আমি তাকে নিয়ে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছি। তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিতে পেরে মনে খুব শান্তি পাচ্ছি।”
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সঙ্গে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় মাইদুল।
ঢাকা/সিপন/মাসুদ
২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৭, আক্রান্ত ১২১৫