‘অন্যের নয়, নিজের সেবা করতে রাজনীতিতে যোগ দেয় মানুষ’
শুভাশিস মুখার্জি
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখনো বাকি দ্বিতীয় দফার ভোট। আগামী ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে। কলকাতা ও রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে এই ভোট হবে। আপাতত রাজনৈতিক দলগুলো মরিয়া হয়ে প্রচারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিভিন্ন দল থেকে বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কলকাতার তারকা শিল্পীরা। অনেক তারকা প্রচারের কাজে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনের আবহে ভোট ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে কথা বলেছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা শুভাশিস মুখার্জি।
ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অভিনেতা শুভাশিস মুখার্জি বলেন, “আমি হলাম খাঁটি উত্তর কলকাতার ছেলে। এমনিতে তো পাড়ার আলাদা একটা পরিবেশ থাকে। উত্তর কলকাতায় যারা বড় হয়েছেন, এ কথা প্রায় সবাই জানেন। উত্তর কলকাতার দর্জিপাড়ার ছিদাম মুদি লেনে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় তো ভোট কী, তার প্রচার কী—এই সব বুঝতাম না। সত্যি, সেই সময় কিন্তু বেশ অন্যরকম একটা পরিবেশ থাকত।”
শৈশবের ভোটের পরিবেশের কথা স্মরণ করে শুভাশিস মুখার্জি বলেন, “ইদানীং তো সেই সব পরিবেশ কেউ আর পায় না। পাড়ার দাদারাও ছিলেন অভিভাবকদের মতো। হই হই করে দেওয়াল লিখন হতো, পোস্টার লাগানো হতো। তখন তো কংগ্রেসের প্রতিপত্তি। সিপিএমও ছিল। পাড়াতেও সেই ভাগাভাগি ছিল। কিন্তু কোনো রেষারেষি, মারামারি, হাতাহাতি কিন্তু ছিল না। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও সবাই কিন্তু বন্ধু। ভোট আসার আগে দেখতাম, দাদারা সেই পোস্টারে আঠা মাখাচ্ছে। ওই বিষয়টা আমাকে খুব আকর্ষণ করত।”
ভারতীয় বাংলা সিনেমা ও টিভি তারকাদের অনেকে রাজনীতিতে পা রেখেছেন, এটি শুভাশিস মুখার্জির অপছন্দ। এ অভিনেতা বলেন, “আমিও সেই দলে মাঝে মাঝে যুক্ত হতাম। কংগ্রেস, সিপিএমের ভাগ বুঝতাম না। তবে পোস্টারে আঠা মাখাতাম। সারা হাতে আঠায় আঠা। খুব আনন্দ পেতাম। আমি সেভাবে রাজনীতি বুঝি না। তাই যেটা বুঝি না, তা নিয়ে কথা বলতেও ভালোবাসি না। যদিও আমি জয়পুরিয়া কলেজে পড়েছি। সেখানে রাজনীতির আখড়া। কিন্তু বরাবরই এই সব থেকে আমি দূরে থেকেছি। উল্টে যারা রাজনীতি করতে যায়, সেটা খুব অপছন্দ হয়। আমার ইন্ডাস্ট্রি থেকে যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের দেখে মনে হয়, কেন কী কারণে ওই ময়দানে গেল? এটা তো ওদের জায়গা নয়। আলটপকা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো অর্থ সত্যিই দেখি না।”
অন্যের সেবা করার নামে মানুষ নিজের সেবা করতে রাজনীতিতে যোগ দেন বলে মন্তব্য শুভাশিষের মুখার্জির। তার মতে, “সবাই দেখি কথায় কথায় বলেন, মানুষের সেবা করতে চান তারা। আমি যে কাজ করছি সেটাও তো সেবা। মানুষকে অভিনয় দিয়ে আনন্দ দিচ্ছি, এটাও তো সেবা। রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষকে সেবা দেবে, কীসের সেবা দেবে? আমার মনে হয়, তারা নিজেদের সেবাই বেশি করে। মানুষ নিজের সেবা করতেই রাজনীতিতে যোগ দেয়, অন্যের সেবা করতে নয়। তাই নির্বাচনের ছোটবেলার স্মৃতিগুলোই আমার কাছে রয়ে গিয়েছে।”
বর্তমানে রাজনীতির যে ধরন, তা পছন্দ নয় শুভাশিস মুখার্জির। তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই সময় দেওয়াল লিখনেও একটা অন্য ছোঁয়া থাকত। ছোটবেলায় দেখতাম, দেওয়ালে ছড়া লেখা থাকত রাজনীতি নিয়ে। এক একটা দলকে তির্যক দৃষ্টিতে বলারও একটা ধরন থাকত। এখন তো সেই পরিবেশও উল্টেপাল্টে গিয়েছে। তখন বোঝা যেত, শিক্ষিত লোকেরাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে যত্ন করে রাখতে চাই। এখন যে রাজনীতি হচ্ছে, সেটা কোনোভাবেই আমার জন্য নয়। তাই এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতেও চাই না।”
ঢাকা/শান্ত