ঢাকা     রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩ || ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উন্নয়নে পিছিয়ে ইবি, দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ

তানিম তানভীর, ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬  
উন্নয়নে পিছিয়ে ইবি, দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠটি ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পার করলেও নানা সংকট এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

দীর্ঘ এই পথচলায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকট, সেশনজট, নিম্নমানের খাদ্যব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসা ও পরিবহন সংকট, সেবাখাতে ডিজিটালাইজেশনের অভাব, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, আবাসন ও নিরাপত্তা সমস্যা, সব মিলিয়ে প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে, এসব সমস্যার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উঠে আসে এর ভৌগোলিক অবস্থান।

আরো পড়ুন:

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে পরিকল্পনা কমিটি গঠন এবং একই বছরে আন্তর্জাতিক ইসলামী শিক্ষা সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর বর্তমান ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে আটটি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগে ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আশপাশের গ্রামীণ জনপদের জীবনযাত্রা এখনো তুলনামূলক অনুন্নত। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা, বাজারব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন যেমন পিছিয়ে, তেমনি এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জীবনমানেও।

প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। টিউশনি বা প্রয়োজনীয় কাজে শহরে যেতে হয়, সাধারণ চিকিৎসার জন্যও দূরে ছুটতে হয়। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাজার বন্ধ হয়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আবাসন সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং আশপাশের মেসগুলোর অনুন্নত পরিবেশ বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কোয়ার্টার সুবিধা থাকলেও অনেকেই সেখানে বসবাস করতে আগ্রহী না। কারণ হিসেবে উঠে আসে জীবনযাত্রার মান, সন্তানের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা। এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশেও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বড় সমস্যা সেবাখাতে ডিজিটালাইজেশনের অভাব। প্রশাসনিক সদিচ্ছার ঘাটতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতার অভাব এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরোনো পদ্ধতি থেকে বের হতে না পারা, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবও সমস্যাকে জটিল করেছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও আশপাশের অঞ্চলকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে একটি বিশেষায়িত অঞ্চল বা নতুন উপজেলা গঠন করা হলে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমবে, শিক্ষকদের আবাসন সমস্যা সমাধান হবে এবং গবেষণা ও একাডেমিক পরিবেশ উন্নত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমানও উন্নত হবে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরো প্রসারিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সমন্বিত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়