দুই ঘণ্টার বাধা ভাঙলেন সাওয়ে: লন্ডনে ইতিহাস, ম্যারাথনের নতুন যুগের সূচনা
আজ রবিবার লন্ডনের রাস্তায় রচিত হলো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। যেখানে গতি, সহনশীলতা আর মানসিক শক্তির এক অনন্য মিশেলে নতুন যুগের দরজা খুলে দিলেন সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। ম্যারাথনের বহুদিনের ‘অভেদ্য’ বলে ধরা ২ ঘণ্টার সীমা অবশেষে ভেঙে দিলেন তিনি। আর তাতেই বদলে গেল দীর্ঘদৌড়ের সংজ্ঞা।
৩০ বছর বয়সী এই কেনিয়ান দৌড়বিদ লন্ডন ম্যারাথনে জয় ছিনিয়ে নেন ১:৫৯:৩০ সময় নিয়ে। যা শুধু নতুন রেকর্ডই নয়, ইতিহাসের প্রথম সাব-টু ঘণ্টার অফিসিয়াল ম্যারাথন। ৪২.২ কিলোমিটার পথ তিনি পাড়ি দিয়েছেন এমন এক গতিতে, যা আগে কেবল কল্পনাতেই সম্ভব বলে মনে করা হতো।
এই দৌড়ে সাওয়ে ছাড়িয়ে গেছেন নিজের দেশেরই কেলভিন কিপতুম এর ২০২৩ সালে শিকাগোয় গড়া রেকর্ডকে, ৬৫ সেকেন্ডের বিশাল ব্যবধানে। একই সঙ্গে তিনি এগিয়ে গেছেন এলিউড কিপচোগের ২০১৯ সালের ভিয়েনার ঐতিহাসিক দৌড়ের সময় থেকেও ১০ সেকেন্ড দ্রুত। যদিও কিপচোগের সেই সময় আনুষ্ঠানিক রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কারণ, সেটি ছিল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, পেসমেকারদের সহায়তায় সম্পন্ন।
শুধু পুরুষদের দৌড়ই নয়, নারীদের প্রতিযোগিতাতেও দেখা গেছে রেকর্ড ভাঙার ঝলক। টিগস্ট আসেফা নিজের শিরোপা ধরে রেখে দৌড় শেষ করেন ২:১৫:৪১ সময়ে। যা নারী-নির্ভর দৌড়ে ইতিহাসের দ্রুততম। শেষ ৫০০ মিটারে গতি বাড়িয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেন দৃঢ়তার সঙ্গে। যদিও এই সময়টি ব্রিটিশ কিংবদন্তি পাউলা র্যাডক্লিফ এর ২০০৩ সালের সামগ্রিক রেকর্ডের চেয়ে ১৬ সেকেন্ড ধীর। তবু নারী একক দৌড়ে এটি এক নতুন মানদণ্ড।
হুইলচেয়ার বিভাগেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স। সুইজারল্যান্ডের মার্সেল হুগ টানা ৬ষ্ঠবারের মতো পুরুষদের শিরোপা জিতেছেন, যা তার মোট ৮ম জয়। আর নারীদের বিভাগে ক্যাথরিন ডেব্রুনার শেষ মুহূর্তে তাতিয়ানা ম্যাকফ্যাডেনকে হারিয়ে নিজের মুকুট অক্ষুণ্ন রাখেন।
লন্ডনের এই দিনটি কেবল একটি দৌড় নয়, এটি ম্যারাথনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যেখানে সীমা আর সীমাবদ্ধতা ভেঙে মানুষ আবারও প্রমাণ করল- অসম্ভব বলে কিছু নেই।
ঢাকা/আমিনুল