ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩ || ১০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বোরো সেচে শত কোটি টাকা সাশ্রয়

আমিরুল ইসলাম, রংপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫৫, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বোরো সেচে শত কোটি টাকা সাশ্রয়

বৃষ্টির পানি ক্ষেতে জমায় সেচ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ দূর হয়েছে রংপুরের বোরো চাষিদের

জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে টানা তিনদিনের বৃষ্টি। উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচ জেলায় চলমান বৃষ্টিপাতে বোরো ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে শত কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে সেচ খরচ নিয়ে যখন উদ্বেগে ছিলেন, তখন এই বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন চাষিরা। 

কৃষকেরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষেত পানিতে ভরে গেছে। আগামী এক সপ্তাহ সেচ সাশ্রয় হয়েছে তাদের। ফলে সেচ খাতে প্রায় শত কোটি টাকার অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এতে কমবে বোরোর উৎপাদন খরচ।

আরো পড়ুন:

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় ব্যাপক বোরো আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৪৮ হাজার ১১০ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ৮১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, একর প্রতি তাদের সপ্তাহে সেচ খরচ ৮০০ টাকা। বৃষ্টির কারণে বিভাগের পাঁচ জেলায় ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭১ একর জমিতে খরচ কমবে ১০০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

রংপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রান্দ ইসলামপুর এলাকার বোরো চাষি ফরহাদ হোসেন জানান, চলমান তাপ প্রবাহে ১১৫ টাকা করে লিটার ডিজেল কিনতে হয়। এক একর জমিতে এক সপ্তাহে দুইবার সেচ দিতে খরচ হয় অন্তত ৮০০ টাকা। গেল দুদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে, এ কারণে কমেছে সেচ খরচের চিন্তার ভাঁজ। ‌আগামী এক সপ্তাহে তার শেষ খরচ সাশ্রয় হয়েছে ৮০০ টাকা। ভারী বর্ষণ এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা করছেন তিনি।

মাঠের হাট এলাকার কৃষক মনিরুজ্জামান বাবু জানান, দুই একর জমিতে তারও সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মতো। চারা থেকে ধান বের হওয়ার মোক্ষম সময়ে এই বৃষ্টি তাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে বলেও স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

মিঠাপুকুর উপজেলার ইসলামপুরের কৃষক এরশাদ হোসেন বলেন, “ডিজেল নিয়ে সংকটের মাঝে আমরা অনেক কৃষক ঠিকমতো জমি সেচ দিতে পারিনি। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ক্ষেতগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কমপক্ষে তিনটি সেচ আমাদের বেঁচে গেল। এতে ধানের আবাদ ভালো হবে। ভারী বৃষ্টি হলে নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা যাবে। আমরা আবহাওয়া দেখে ফসলের দিকে নজর রাখছি।”

জাতীয় কৃষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ শিশির জানান, জ্বালানি তেলের এই সংকটকালে সেচ ব্যবস্থায় যখন কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছিল, সেই সময়ে বৃষ্টি আশীর্বাদ হিসেবে নেমে এসেছে কৃষকের বোরো ধানের জমিতে। ফলে সেচ ব্যবস্থায় অনেক টাকা সাশ্রয়ী হয়েছে কৃষকের।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রংপুরে বৃষ্টিপাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। ডিজেল দিয়ে জমি সেচ দিতে না হওয়ায় কৃষকের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। শনিবার ও রবিবার রংপুরের ৮ উপজেলা ও রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫টি জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে ধানের প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় ক্ষেতে পানির প্রয়োজন ছিল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিন ক্ষেতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যদি এমন আবহাওয়া বিরাজ করে, তবে এবার কম সেচেই বোরো উৎপাদন করা যাবে। বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় রংপুরে ১৭৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

রংপুর আবহওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “রংপুরে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি চারদিন ধরে চলমান থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এ তথ্য কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেহেতু বজ্রপাত হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে হলেও পরামর্শ তার।

ঢাকা/আমিরুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়