ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩ || ১০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আজকের দিনে প্রচারের আলোয় থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ’

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০০, ২৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:০২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
‘আজকের দিনে প্রচারের আলোয় থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ’

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী সঞ্জনা গালরানি। প্রায় দুই দশক ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। কিছু দিন আগে বিগ বস তেলেগুতে অংশ নিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। একটি ধারাবাহিকের মাধ্যমে তেলেগু টেলিভিশনে পা রাখতে যাচ্ছেন এই তারকা অভিনেত্রী। বড় পর্দা থেকে টিভিতে কাজ করার সিদ্ধান্তের বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। 

টেলিভিশনের কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেও সিনেমার প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট। সঞ্জনা বলেন, “সিনেমায় এখনো নারীদের সুযোগ সীমিত। এতগুলো সিনেমার মধ্যে খুব কমই আছে, যেগুলো সত্যিকারের নারী-কেন্দ্রিক। আমি সবসময়ই শক্তিশালী নারী-কেন্দ্রিক একটি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চেয়েছি। যেমন: ‘অরুন্ধুতি’।” 

আরো পড়ুন:

‘অরুন্ধুতি’ এমন একটি সিনেমা, যাতে ‘অরুন্ধুতি’ চরিত্রে অভিনয় করে আনুশকা শেঠি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। সঞ্জনা বলেন, “কিছু সময় আপনি এমন একটা চরিত্র খোঁজেন, যা আপনাকে একজন অভিনেতা হিসেবে চ্যালেঞ্জ করে এবং নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়।”

টেলিভিশনের কাজে ঝুঁকে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সঞ্জনা বলেন, “আপনাকে প্রতিদিন ৩৫–৪০ পৃষ্ঠা শুট করতে হয়। এটা কঠিন। কিন্তু আপনি এতে একজন অভিনেতা হিসেবে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকেন। আপনি সবসময় অভিনয় করছেন, প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন—এটাই আপনার দক্ষতাকে জীবন্ত রাখে। এই মাধ্যমে একটা স্থায়ীত্ব এবং তাৎক্ষণিকতার অনুভূতি আছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার কাজ প্রচারিত হয়। আপনি প্রতিদিন দৃশ্যমান থাকেন, আর দর্শকরা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার সঙ্গে যুক্ত হয়; এটা খুবই তৃপ্তিদায়ক।”

নিজেকে নতুন করে গড়া কোনো নাটকীয় ব্যাপার নয়, বরং এটি শৃঙ্খলার বিষয়। দুটি সন্তান জন্মদানের পর এই যাত্রায় আরো বেশি দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন। সঞ্জনার ভাষায়—“প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা মূল বিষয়। এই ধারাবাহিকতা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনাকে সচেতনভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসার চেষ্টা করতে হবে। কেবল তাই নয়, নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, আপনি কেন এটি করছেন। এটি কেবল বাহ্যিক রূপের বিষয় নয়; এটি ভারসাম্য অনুভব করার বিষয়ও।”

সঞ্জনার এক বছর বয়সি একটি কন্যা এবং চার বছর বয়সি একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় অন্য শহরে গিয়ে শুটিং করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “যখন শুটিংয়ের জন্য অন্য শহরে যেতে হয়, তখন আমার দিন খুব ভোরে শুরু হয়। আর সামান্য বিরতি পেলেই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করি।”

আপাতত শক্তিশালী একটি কন্নড় ভাষার প্রজেক্টের অপেক্ষায় সঞ্জনা। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমি শক্তিশালী কন্নড় ভাষার একটি প্রজেক্টের জন্য অপেক্ষা করছি। বেঙ্গালুরুতে থাকি, তাই এমন জায়গায় কাজ করতে চাই, যেখানে শুটিং করে একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারব।”

এখন ছোট ও বড় পর্দার কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে করেন সঞ্জনা। এ অভিনেত্রী বলেন, “এখন আর টেলিভিশন, সিনেমা বা ডিজিটালের মধ্যে তেমন কোনো বিভাজন নেই। মূল বিষয় হলো—আপনার কাজ মানুষের সঙ্গে কতটা সংযোগ তৈরি করছে। সময়ের সঙ্গে সংযোগটা অনলাইনে প্রকাশ পায়। আপনার শোয়ের কোনো দৃশ্য যদি ট্রেন্ড হয়, সেটা যদি হালকা মজার ছলেও হয়, তবু বুঝতে হবে মানুষ দেখছেন। আজকের দিনে প্রচারের আলোয় থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

বলে রাখা ভালো, ভারতের কর্নাটকের চাঞ্চল্যকর মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সঞ্জনা। কারণ ২০২০ সালে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সঞ্জনা গালরানিকে।

*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়