ইন্দোনেশিয়ায় দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: নিহত ১৪, আহত ৮৪
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার উপকণ্ঠে বেকাসিতে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর বোনকে খুঁজে না পেয়ে কাঁদতে থাকা এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রী সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে দুটি ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেনের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর আল-জাজিরার।
সোমবার গভীর রাতে জাকার্তা সংলগ্ন বেকাসি সিটি রেল স্টেশনে একটি লোকাল (কমিউটার) ট্রেন এবং একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। কমিউটার লাইন অপারেটরের মুখপাত্র করিনা আমান্ডা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেল কোম্পানি কেএআই এক বিবৃতি জানায়, “মঙ্গলবার সকাল ০৮:৪৫ (পশ্চিম ইন্দোনেশীয় সময়) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।” তারা আরো জানায় যে, আহত ৮৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও যারা আটকা পড়ে আছেন তাদের উদ্ধারে জরুরি কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাফি বলেছেন যে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলোর মারাত্মক ক্ষতি এবং উদ্ধারকর্মীদের কাজ করার জন্য খুব সামান্য জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
শাফি আরো জানান, বগিগুলো কেটে ভেতরে আটকে পড়াদের বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীদের খুব ‘ধীরে’ এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। ঘটনাস্থলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা ট্রেন দুটিকে আলাদা করেছেন এবং মেটাল কাটার দিয়ে ট্রেনের ধাতব কাঠামো কেটে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
রেল অপারেটর কেএআই-এর মুখপাত্র অ্যান পুরবা প্রথমে ৫ জন নিহতের খবর দিলেও মঙ্গলবার সকালে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।
কেএআই-এর আরেক মুখপাত্র ফ্রানোটো উইবোবো জানান, একটি ট্যাক্সি সম্ভবত একটি লেভেল ক্রসিংয়ে লোকাল ট্রেনটিকে ধাক্কা দিলে সেটি লাইনের ওপর অচল হয়ে পড়ে। এরপর একটি দূরপাল্লার ট্রেন এসে ওই লোকাল ট্রেনটিকে আঘাত করে।
কম্পাস ডটকম-এর তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি হলো জাকার্তা-চিকারং রুটের একটি কমিউটার ট্রেন এবং ‘আরগো ব্রোমো আংগ্রেক’ নামক একটি দূরপাল্লার ট্রেন। এই ট্রেনটিকে জাকার্তা এবং সুরাবায়ার মধ্যে চলাচলকারী ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্রুতগতির ট্রেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার রেলওয়ে নেটওয়ার্কে ট্রেন দুর্ঘটনা খুব অস্বাভাবিক নয়। এর আগে ২০১০ সালে সেন্ট্রাল জাভা প্রদেশে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পেছনে অন্য একটি ট্রেন ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৫ সালে ওয়েস্ট জাভায় একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একটি মিনিবাসের ১৮ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
ঢাকা/ফিরোজ
রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা ইরানের