ঢাকা     বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তবুও মনে খচখচে আফসোস!

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ২৯ এপ্রিল ২০২৬  
তবুও মনে খচখচে আফসোস!

বাংলাদেশ সফরে নিউ জিল্যান্ড যে দলটি পাঠিয়েছে, প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঝারি মানেরই ধরা হয়েছিল। দশে সর্বোচ্চ ছয়-সাত। তাদের মূল তারকারা ব্যস্ত আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে। ফলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল নিয়েই তারা এসেছে।

তবে এই দলকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ঢাকার ওয়ানডেগুলোতেই তা পরিষ্কার হয়েছে। দুই ম্যাচেই তারা তীব্র লড়াই করেছে, একটি জিতেছেও। যদিও চট্টগ্রামের তৃতীয় ওয়ানডে এবং প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তারা ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি।

অন্যদিকে, সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দলজুড়ে সন্তুষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের সবাই নিজেদের পেশাদারিত্ব ও পারফরম‌্যান্সে খুশি, তৃপ্ত। কিন্তু সেই খুশির আড়ালে রয়েছে খচখচে আফসোসও। ড্রেসিংরুমে শোনা গেছে, “এমন ফর্মে থেকেও আমরা বিশ্বকাপটা মিস করলাম!”

বিষয়টি স্পষ্ট। লিটন দাসের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দলটি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা ভালো কিছু করার আশা জাগিয়েছিল। গত বছর ৩০ ম্যাচে ১৫ জয় ও ১৪ হারে দলটির পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.০৭১, গড় ২৩.৩২; যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা।

তবুও সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সেই বিশ্বকাপে যাওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্রিকেটারদের আফসোস এখনও কাটেনি। অধিনায়ক লিটন দাস যদিও দাবি করেছেন, তারা বিষয়টি পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, বাস্তবে তা পুরোপুরি হয়নি।

সাগরিকার ২২ গজে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে যেভাবে নাস্তানাবুদ করা হয়েছে, তাতে সেই আফসোস আবারও সামনে এসেছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন—“আমরা এমন একটা বিশ্বকাপ কীভাবে মিস করলাম?” বিশেষ করে প্রথমবার যারা বিশ্বকাপ মঞ্চে মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিল তাদের আফসোসটাও আরও বেশি।

দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ, ভাগ‌্য কতজনের হয়। ধারাবাহিক পারফর্ম না করলে জায়গা হারাতে হয়। ইনজুরি, চোট, অসুস্থতা কতো কিছুর কারণে ভাগ‌্যকেও অনেকে পাশে পান না ক্রিকেটাররা। সেখানে বাংলাদেশের পুরো দল এবার যাদের নিয়ে খেলার পরিকল্পনা করেছিল তারা প্রত‌্যেকেই ফিট ছিল, ইনফর্ম ছিল। অথচ বাংলাদেশ নাম সরিয়ে নেয় বিশ্বকাপ থেকে।

২০ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পড়েছিল সি গ্রুপে। যেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল‌্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, স্কটল‌্যান্ড ও ইতালি। লিটনের দল যেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতো সেখানে অনায়েসেই সুপার এইটে যেতে পারতো। পারফরম‌্যান্সের ডানা মেলতে পারলে আরও উচুঁতে যাওয়ায় এবার অস্বাভাবিক ছিল না। কেননা দলটার গভীরতা, সম্পর্ক, শৃঙ্খলতা ছিল অনন‌্য। পারফরম‌্যান্সের দিক থেকে উঠা-নামা থাকলেও মানসিকতায় ছিল অনবদ‌্য। লিটন দলটাকে সংসার বানিয়ে রেখেছিলেন। সাজানো গোছানো সংসার ছিল আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর। 

যেখানে সামান‌্য আঁচড়, যেমন শামীমকে বাদ দেওয়া হলে নির্বাচকদের বিরুদ্ধে কথা বলেন দেন লিটন। অধিনায়কত্বে থাকবেন কিনা সেই সংশয়ও দেখা যায়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে চলে আসায় সেসবের প্রয়োজন হয়নি। ঘোছানো দলটাকে নিয়েই তার ইডেন ও মুম্বাইতে খেলার কথা ছিল বিশ্বকাপ। কিন্তু সরকারের দূরদর্শিতার অভাব ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে তা হয়নি।

পাঁচ মাস পর সেই দলটাই যখন চট্টগ্রামে নামল তখন মাথায় ঘুরে ফিরে বিশ্বকাপের চিন্তা তো ছিলই। নিউ জিল‌্যান্ডক আগে ব‌্যাটিং করে ১৮৩ রান করে ফেললেও বাংলাদেশ বিচলিত হয় না। চাপহীন ক্রিকেট, আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের নতুন ব্র‌্যান্ড তৈরি করে বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ওই লক্ষ‌্য ছুঁয়ে ফেলে।

মাঠ মাতিয়ে, দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ছিল সুখী পরিবারের আদর্শ চিত্র। কিন্তু আস্ত একটি বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কষ্ট, খচখচে আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছিল কষ্ট। যে কষ্টে প্রলেপ দেওয়ার মতো নেই কিছুই।

আজ ‍দুপুর ২টায় আবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় স্বাগতিকরা। লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে পারফরম‌্যান্সে জং ধরতে না দেওয়া বাংলাদেশ সাগরিকায় সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতবে এই বিশ্বাসটুকুই ছড়িয়ে গেছে ড্রেসিংরুমে। এবার কেবল মাঠে দেখানোর পালা।

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়