ঢাকা     বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোয়াখালীর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা

নোয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০০, ২৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১২:০৬, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালীর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা

নোয়াখালীর শহরের বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালটিতে মারা যান ইমাম হোসেন বাবু (৩০)। উত্তেজনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। 

আরো পড়ুন:

মারা যাওয়া বাবু সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড়া ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের স্বজন আনিসুর রহমান জানান, বাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণেই বাবুর মৃত্যু হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাকে।”

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, রোগী যখন হাসপাতালে তখন তার অবস্থা ভালো ছিল না। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক জানতে পারেন, রোগী বুকে ব্যাথা নিয়ে সকাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়েছেন।  দুপুরে বাড়িতে মাটি কাটার কাজ করেন। যা রোগীকে আরো অসুস্থ করে তোলে। রোগীকে যখন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয় তখন সন্ধ্যা সোয়া ৭টা বাজে। চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা করানোর আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।

নোয়াখালী প্রাইম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার মাহবুবুর রহমান জানান, কোনো মৃত্যু কাম্য নয়। চিকিৎসা অবহেলা বা গাফিলতির কোন কিছুই ঘটেনি। হাসপাতালে আসার পরপরই রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগেই রোগী মারা যান। রোগীকে যখন হাসপাতাল আনা হয় তখনই তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। 

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেনি। তারপরও আমি স্বউদ্যোগে আজ প্রাইম হাসপাতাল ভিজিট করেছি। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ঢাকা/সুজন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়