ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩ || ১০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৬:২৬, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন

সোমবার বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করা হয়

অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। অর্জিত হলো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

আরো পড়ুন:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— ডাক ও টেলি যোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক এলক্সি লিখাচভ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির ধারণকৃত বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলি যোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কিছুদিন যাবত এই পারমাণবিক প্রকল্পে কাজ করছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সেফটি-সিকিউরিটি রেখে যত দ্রুত সম্ভব এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমিশনিং করার জন্য। আজকে সেই দিন আমরা পেয়েছি।”

তিনি বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ থেকে আজকে আমাদের জ্বালানি লোডিং শুরু হলো। এটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বহু বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা, দক্ষতা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সফল পরিণতি দেখতে পাচ্ছি আজ। রাষ্ট্র যখন দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে, তখন এমন অর্জন সম্ভব হয়।”

মন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অপরিহার্য। এই বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় অন্যতম ভিত্তি। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, এটা আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পায়ন, ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে।”

ডাক ও টেলি যোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “আজ বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় ও তাৎপর্যময় দিন। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি নয়, একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সক্ষতমতার বাস্তব প্রতিফলন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং করতে সময় লাগবে ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এর পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে প্রথম অবস্থায় অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। এর মাধ্যমেই জ্বালানি লোডিংয়ের পথ প্রশস্ত হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ সফলভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। এই ৫২ জন বিশেষজ্ঞ এবং রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরদের সমন্বয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়তে থাকবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা আছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করবে।

ঢাকা/শাহীন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়