জাতীয় ক্রিকেট লিগে ‘সেকেন্ড ইলেভেন’, কী এর সুবিধা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্রিকেটের অবকাঠামো ও কাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
প্রধান তিনটি উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিট ক্যানোপি স্থাপন, বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সোলার সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ চালু করা।
নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলে ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইলেভেন থাকবে, যা প্রায় ১৫০–২০০ নতুন ক্রিকেটারের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। এতে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল দলে জায়গা করে নিতে পারবে।
এছাড়া, ঢাকার বাইরে ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে হোম-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির৷
তামিম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর একটি বড় সমস্যা হলো একই সীমিত সংখ্যক খেলোয়াড়ই সব ধরনের টুর্নামেন্টে সুযোগ পায়। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিপিএল, বিসিএল, এনসিএলসহ একাধিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলছে। কিন্তু যারা তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ বা প্রথম বিভাগে খেলে, তাদের জন্য লিগ ছাড়া আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম নেই। ফলে এই স্তরগুলো থেকে জাতীয় দলে উঠে আসার উদাহরণ খুবই কম।’’
এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বিসিবি নতুন একটি কাঠামো চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রতিটি দলের দুটি স্কোয়াড থাকবে—ফার্স্ট ইলেভেন ও সেকেন্ড ইলেভেন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচগুলো তিন দিনের হবে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নতুন ক্রিকেটার নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবে।"
সেকেন্ড ইলাভেনের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি,"প্রথমত, যারা দীর্ঘদিন স্কোয়াডে থেকেও খেলার সুযোগ পায় না, তারা সেকেন্ড ইলেভেনে নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারবে। দ্বিতীয়ত, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেখান থেকে ফার্স্ট ইলেভেনে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। আবার কেউ ফার্স্ট ইলেভেনে খারাপ করলে তাকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সেকেন্ড ইলেভেনে খেলিয়ে পুনরায় সুযোগ দেওয়ার পথ থাকবে। এতে দলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং একটি স্বাভাবিক পারফরম্যান্স-ভিত্তিক সংস্কৃতি তৈরি হবে।"
তামিম আরও বলেন, এতদিন জাতীয় লিগে প্রয়োজনে বাইরে থেকে হঠাৎ খেলোয়াড় এনে খেলানোর যে প্রবণতা ছিল, সেটিও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কমে আসবে। একই দলের সেকেন্ড ইলেভেন থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় তুলে আনা যাবে। এর ফলে “পিকনিক ক্রিকেট” সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।
ইনজুরি থেকে ফেরা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। আগে অনেক সময় তাদের সরাসরি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে নামিয়ে সীমাবদ্ধতা দিয়ে খেলানো হতো। এখন তারা আগে সেকেন্ড ইলেভেনে খেলে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে, যেখানে নিয়ম কিছুটা নমনীয় থাকবে। উদাহরণ হিসেবে তাসকিন আহমেদ-এর মতো খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের কীভাবে ব্যাটিং বা বোলিং করতে হবে, তা শেখানো বোর্ডের কাজ নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা বোর্ডের দায়িত্ব, যেখানে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় ধাপে ধাপে ওপরে উঠতে পারে। এই “সেকেন্ড ইলেভেন” টুর্নামেন্ট সেই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল