অর্থনীতি পুনর্গঠন করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী
বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৫ মে) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকার গঠনের পর থেকেই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজও অব্যাহত আছে।”
তিনি বলেন, “বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
সম্পূরক বাজেটের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের জন্য দাবিকৃত মঞ্জুরিগুলো অনুমোদনের আহ্বান জানান।
ঢাকা/এএএম/রফিক
হামে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু