ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝালকাঠিতে ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ধানের ক্ষতি 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৬  
ঝালকাঠিতে ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ধানের ক্ষতি 

ঝালকাঠিতে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও হেলে পড়েছে পাকা ধান। এতে মৌসুমের শেষ সময়ে ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।ঝালকাঠিতে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও হেলে পড়েছে পাকা ধান। এতে মৌসুমের শেষ সময়ে ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। 

আরো পড়ুন:

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, বর্তমানে জেলায় ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে এবং দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে বোরো ধানের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি মুগ, মরিচসহ অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

কৃষি বিভাগ জানায়, ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় বোরো আবাদ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে বিরূপ আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

এদিকে, মৌসুমজুড়ে ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিও কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক ক্ষেতেই সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আবার বেশি দামে ডিজেল কিনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে বলে জানান কৃষকরা।

মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে আধাপাকা ধান ঝড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও জমে থাকা পানির নিচে ডুবে আছে ফসল। এতে কৃষকের সম্ভাব্য ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নতুল্লাবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম হাওলাদার বলেন, “তিনি অতিবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”

তিনি জানান, ব্রি ধান ৭৪ জাতের ১৬০ শতক এবং হাইব্রিড ময়না ও টিয়া জাতের ১২০ শতক জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানগাছ ভেঙে পড়ায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন বলেন, “৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ধান আবাদ করেছি। সেচ দিতে অনেক কষ্ট হয়েছে, তেল ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। এখন আবার বৃষ্টিতে জমি পানিতে ডুবে গেছে। সব মিলিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।” 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহম্মদ বলেন, “যেসব জমির ধান পরিপক্বতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”

নলছিটি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল মৃধা জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দ্রুত ধান কাটা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এ বছর শ্রমিক সংকট তেমন না থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ডিজেল সংকট এবং মৌসুমের শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে ঝালকাঠির কৃষকেরা এবার লাভের বদলে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন।

ঢাকা/অলোক সাহা/ইভা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়