ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চর্বি কমাতে হলে ৫টি অভ্যাস গড়ে তুলুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৮:৫২, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চর্বি কমাতে হলে ৫টি অভ্যাস গড়ে তুলুন

ছবি: প্রতীকী

শুধু ব্যায়াম করলেই শরীরের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। আসলে এই অংশের চর্বি কমাতে হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের সমন্বয় প্রয়োজন।

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কমান
শরীরের যেকোনো অংশের চর্বি কমানোর জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে অতিরিক্ত চিনি কমানো বিশেষভাবে জরুরি। কুকিজ, মিষ্টি, স্পোর্টস ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস এ জাতীয় খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে ফলের মতো প্রাকৃতিক খাবারে থাকা চিনি এর মধ্যে পড়ে না।

আরো পড়ুন:

অতিরিক্ত চিনি খেলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, পাশাপাশি পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। টেবিল সুগার, হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ, মধু বা আগাভ নেক্টার—এসবের মধ্যে থাকা ফ্রুক্টোজ শরীরের মেটাবলিজমে প্রভাব ফেলে এবং চর্বি জমাতে সহায়তা করে। 

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, নারীদের দৈনিক ৬ চা-চামচ (২৫ গ্রাম) এবং পুরুষদের ৯ চা-চামচ (৩৬ গ্রাম) এর বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়।

অ্যালকোহল গ্রহণ কমান
ওজন কমাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যালকোহল কমানো। নিয়মিত বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে।
অনেক অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়তে প্রচুর ক্যালরি ও চিনি থাকায় তা ধীরে ওজন বাড়িয়ে দেয়। তাই অ্যালকোহল কমানো শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন
অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, বাদাম, বীজ ও ফ্যাটি মাছের মতো খাবারে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ এসব খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে পরিমিত পরিমাণে এসব স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত করা ভালো।

ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ বাড়ান
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যোগ করলে লাভ হ্যান্ডেলস কমাতে সাহায্য হতে পারে। এই ফাইবার পাওয়া যায় ডাল, বাদাম, ওটস, শাকসবজি ও ফলে। দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধা কমে—যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণ করলে পেটের ভেতরের ক্ষতিকর চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়া, এসব ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও ভালো।

প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান
খাবারের তালিকায় উচ্চমানের প্রোটিন যোগ করা হলে চর্বি কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

এছাড়া, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য মেটাবলিজম বাড়াতে, পেশি সংরক্ষণ করতে এবং ওজন কমার পর পুনরায় ওজন বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করতে পারে।

উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎসগুলো হলো:
ডিম, বাদাম, বীজ, ডালজাতীয় খাবার, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস এবং কম চর্বিযুক্ত, অপরিশোধিত মাংস। সব মিলিয়ে, লাভ হ্যান্ডেলস কমাতে একক কোনো ব্যায়াম নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: হেলথলাইন

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়