ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বরগুনায় পাউবোর ২ একর জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ 

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১০:৪৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বরগুনায় পাউবোর ২ একর জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ 

বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে ঘের নির্মণের অভিযোগ উঠেছে।

বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুই একর জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই চলছে এই দখলের মহোৎসব।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট নিশানবাড়িয়া মৌজায় নলবুনিয়া এলাকায় পাউবোর প্রায় দুই একর জমি দখল করে খননযন্ত্র দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী সোহরাফ হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার, মস্তফা বিশ্বাস, লাল মিয়া, আ. হক মিয়া ও লাল মিয়া হাওলাদার। গত ১ এপ্রিল তাদের মাটি কাটা বন্ধকরণ নোটিশ দেয় পাউবো। নোটিশ পাওয়ার পরও দাপটের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। 

আরো পড়ুন:

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার বলেন, “সরকারি জমিতে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে মাছের ঘের নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা পাউব কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।” 

নজরুল হাওলাদার বলেন, “সরকারি জমি সবার সামনে প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কয়েকবার ফোন দিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কর্মকর্তারা শুধু একটা নোটিশ পাঠিয়েই চুপ হয়ে গেছে। মূলত, তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই চলছে দখলের মহোৎসব। আসলে লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দখলদারদেরই সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোটিশ পাওয়া সিদ্দিক হাওলাদার বলেন, “আমরা এখানে ৪২ বছর ধরে বসবাস করতেছি। আমাদের এখানে সমুদ্র থেকে লবন পানি ঢুকে সমস্যা হয় এজন্য সামান্য মাটি কাটছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে দেখে গেছেন, তারা বলছেন, এতে কোনো ক্ষতি নেই।”

অভিযুক্ত সোহরাফ হাওলাদার বলেন, “সমুদ্রের লবন পানি আটকাতে বাঁধ দিয়েছি, এতে সবার উপকার হবে।” 

মস্তফা বিশ্বাস বলেন, “আমাদের জন্ম এখানে। আমার বাড়ির মুখসা আমি ব্যবহার করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লোকজন এসে দেখে গেছেন।” 

পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী-আমতলী উপজেলার সমন্বয়ক আরিফ রহমান বলেন, ‍“উপকূলীয় এলাকায় পাউবোর জমি বা বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলো মূলত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে। সেখানে ভেকু দিয়ে মাটি খনন করে ঘের তৈরি করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে এবং লোনা পানির অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে।”

তিনি আরো বলেন, “যেখানে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জলাশয় বা সরকারি জমি রক্ষায়, সেখানে প্রভাবশালীরা আইনকে তোয়াক্কা না করে ঘের নির্মাণ করছেন। এটি জনস্বার্থের চরম পরিপন্থী।”

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “দখলদারদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। পুনরায় কাজ পরিচালনা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়