ভারত-বিরোধী শক্তির কাঠপুতুল কংগ্রেস: মোদি
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে সরকার যখন দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করার চেষ্টা করছে, তখন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ভারতীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ভারতের আসামে এক নির্বাচনি জনসভা থেকে কংগ্রেস শিবিরকে এভাবেই তুলোধনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেসকে ‘ভারত-বিরোধী শক্তির কাঠপুতুল’ বলেও অভিহিত করেছেন।
আসন্ন এপ্রিল মাসে ভারতের পাঁচ রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরলম ও পুদুচেরি-তে অনুষ্ঠিত হবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শনিবার আসামের শিলচর ও পশ্চিমবঙ্গের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মেগা জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আসামে শিলচরের জনসভায় ভাষণের শুরু থেকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন “যুদ্ধ আবহে যাতে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা যায়, তার জন্য আমাদের সরকার দিনরাত কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হল দেশের নাগরিকদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব হ্রাস করা। এই সংবেদনশীল সময়ে আশা করেছিলাম, কংগ্রেস একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবে। কিন্তু এবারও হাত শিবির ব্যর্থ।” তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস দেশের অন্দরে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তারা ভাবছে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়বেন। যাতে পরবর্তীতে আমাকে গালিগালাজ করা যায়।”
আক্রমণে ঝাঁজ আরও বৃদ্ধি করে মোদি বলেন, “বিশ্বের যেসব শক্তি ভারতের উন্নয়ন হজম করতে পারছে না, কংগ্রেস ক্রমশ এই শক্তিগুলোর কাঠপুতুল হয়ে উঠছে। একের পর এক রাজ্যের ভোটের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে দলটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।”
এরপরই আসামবাসীর উদ্দেশে বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আসাম থেকে কংগ্রেসকে উৎখাত করেছেন। আজ দেশের প্রতিটি রাজ্য কংগ্রেসকে শিক্ষা দিচ্ছে। কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে হেরে যাচ্ছে। কংগ্রেস ক্রমে পরাজয়ের শতাব্দী অতিক্রম করতে চলেছে।”
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এআই সম্মেলনে কংগ্রেস কর্মীদের ‘অর্ধনগ্ন’ প্রতিবাদের প্রসঙ্গও এদিন ফের উত্থাপন করেন মোদি। বলেন, “পরাজয়ের হতাশা কংগ্রেসকে এতটাই গ্রাস করেছে যে তারা দেশবাসীর বিরুদ্ধেই আক্রমণ শুরু করেছে। কংগ্রেস নেতারা দেশকে অপমান করার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।”
আসামের জনসভা শেষ করে সোজা কলকাতায় আসেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথমেই তিনি যোগদেন একটি প্রশাসনিক সভায়। নির্বাচনি তফসিল জারি হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওই প্রশাসনিক সভায় থেকে প্রায় ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি রুপির একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সরকারি অনুষ্ঠান শেষে একই মাঠের পৃথক মঞ্চে দলীয় রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দেন মোদি।
কলকাতায় অবশ্য শিলচরের রেশ টানেননি মোদি, ব্রিগেডে মোদি তার ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করেন পশ্চিববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদল, নারী নিরাপত্তা থেকে আইনের শাসন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যর্থতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সবকিছুর হিসাব হবে। একদিকে বিকাশ করব, অন্যদিকে হিসেব নেব। তৃণমূলের যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের ভয় দেখানোর দিন শুরু হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব কট্টরপন্থি, অনুপ্রবেশকারী, গুন্ডারা ভয়ে থাকবে। এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।”
অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, জনবিন্যাস বদলে হিন্দুদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে পশ্চিবঙ্গে! তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার নিরীহ হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে রাখতে চায়। এরা কট্টরপন্থিদের উসকানি দেয়। গুন্ডাদের পোষে। আজ অনুপ্রবেশকারীদের অত্যাচারে বাঙালিরাই বাংলা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলার ‘রোটি-বেটি-মাটি’র ওপর হামলা চালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা।”
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সিএএ বিরোধিতাকে তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা যখন সিএএ করলাম, এখানকার তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করল। শরণার্থী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে বললে পুরো তৃণমূল একসঙ্গে বিরোধিতা করে। আসলে ওঁরা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে চায় না।”
মোদির দাবি, “বিগত কয়েক দশকে বাংলার বহু এলাকায় জনবিন্যাস বদলে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দিচ্ছে। তুষ্টিকরণের এমন নোংরা খেলা আর সইবে না বাংলা।” মোদির অভিযোগ, “এখানকার তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায় না, ভোটার তালিকা সংশোধন করতে চায় না।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার হিন্দুদের ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ভাবেই না তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদের ভোটব্যাঙ্ক শুধুই অনুপ্রবেশকারীরা। তাই তাঁদের বাঁচাতেই এসআইআর বিরোধিতা।
নারী নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অনেক আশা নিয়ে বামেদের হঠিয়ে তৃণমূলকে এনেছিল, কিন্তু এই সরকার গুন্ডা ও মাফিয়াদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আরজি কর এবং সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ সেই ভয়াবহ ছবি ভোলেনি। এমনকি কলেজ এবং দলীয় কার্যালয়েও যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির আক্ষেপ, “এখনও বাংলার মেয়েদের বলতে হয় সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে এসো।” এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারীরা সুরক্ষিত থাকবেন, এটাই মোদির গ্যারান্টি।”
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ