ঢাকা     বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোয়াখালী সরকারি কলেজে ‘শিক্ষকের ওপর হামলা ও ভাঙচুর’ ছাত্রদলের 

নোসক সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২৯ এপ্রিল ২০২৬  
নোয়াখালী সরকারি কলেজে ‘শিক্ষকের ওপর হামলা ও ভাঙচুর’ ছাত্রদলের 

বুধবার ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা ডাকে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজে (নোসক) ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে এক শিক্ষকের ওপর হামলা, হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ আরো কয়েকজন এ হামলায় চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী  শিক্ষকরা জানায়, দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারো গ্রহণ না করেন। 

এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয় এবং হামলাকারী তার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে ফেলে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন। আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে পালায় দিবে।” 

ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। কলেজ প্রশাসন  নিরাপত্তা চাওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/সুমাইয়া/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়