যুক্তরাষ্ট্র-ইরানপন্থি গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত ইরাক
বাগদাদের গ্রিন জোনের আল রশিদ হোটেলে ড্রোন হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এর পরপরই জাদরিয়াহ জেলায় ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর ওপর প্রাণঘাতী হামলায় চারজন নিহত হন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, মার্কিন দূতাবাসের সি-র্যাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মঙ্গলবার ভোরে অন্তত দুটি ড্রোন ভূপাতিত করে, তবে একটি ড্রোন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই এলাকা থেকে যে ধোঁয়া ও আগুন দেখা গেছে তা দূতাবাসের ভেতর থেকেই আসছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের আবহে মার্কিন বাহিনী এবং তেহরানপন্থি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।
রয়টার্স জানায়, জাদরিয়াহর হামলাটি ইরান-সমর্থিত ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে চালায় মার্কিন বাহিনী ।
পিএমএফ মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট, যা ২০১৪ সালে আইএসআইএল (আইএস) এর অগ্রগতি রুখতে গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে একে ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাদরিয়াহর ওই ভবনে ইরানি উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে বাগদাদের গ্রিন জোনের একটি খ্যাতনামা হোটেলে ড্রোন আঘাত হানে। ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আল রশিদ হোটেলে ওই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আল জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেল ওয়াহেদ জানান, বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোনটি হোটেলের ছাদে আঘাত হানে। এই হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি কূটনৈতিক মিশন ও তেল কোম্পানির বিদেশি কর্মীরা অবস্থান করেন।
আবদেল ওয়াহেদ আরও জানান, আল রশিদ হোটেলে এই হামলাটি সম্ভবত সিরিয়া সীমান্তের কাছে আল-কাইম শহরে পিএমএফ চেকপয়েন্টে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। ইরাকি সেনাবাহিনীর মতে, ওই চেকপয়েন্ট সম্প্রতি মার্কিন হামলায় অন্তত ৮ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরাকি সেনাবাহিনী এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক ও কাপুরুষোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে, সোমবার (১৬ মার্চ) পিএমএফ-এর অন্যতম বড় গোষ্ঠী ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ’ তাদের একজন সিনিয়র কমান্ডার আবু আলী আল-আসকারির মৃত্যুর কথা জানিয়েছে, তবে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
একই দিনে ইরাকের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে। বসরা প্রদেশের মাজনুন তেলক্ষেত্রে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং ইরানের পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইরাকের তেল শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আব্দুল-গনি সোমবার এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, কিরকুক থেকে তুরস্ক পর্যন্ত একটি পাইপলাইন এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে, যা ইরাককে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করতে সাহায্য করবে।
ঢাকা/ফিরোজ