যুদ্ধ অবসানের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত: ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই
যুক্তরাষ্ট্রের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান ও ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন সত্ত্বেও একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রধান অংশগুলো চূড়ান্তকরণের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, “লিখিতভাবে চুক্তির মূল অংশগুলো প্রায় চূড়ান্ত। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান, যা এই শান্তি প্রক্রিয়ায় বারবার অস্থিরতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ইরান পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনার মাঝেই বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, অবাস্তব নতুন দাবি তুলেছেন এবং এমনকি সামরিক হামলাও চালিয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই বারবার লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাম্প্রতিক হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সিরিক অঞ্চলের দুটি পানির জলাধারে আঘাত হেনেছে। বাঘাই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনীতির কথা বলে, অন্যদিকে একই সঙ্গে শক্তি প্রয়োগ ও অপরাধমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে।”
ইরানের মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “ইরান কূটনীতি এবং যুদ্ধক্ষেত্র- উভয় ক্ষেত্রেই প্রমাণ করেছে যে তারা কখনোই কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। আমাদের ‘রেড লাইন’ হলো ইরানি জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ।”
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান সবসময়ই এই আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু মার্কিন আগ্রাসনের কারণেই এই রুটটি অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণের পর- যার মধ্যে তিনটি ভারতীয় জাহাজ ছিল এবং কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সব ধরনের নৌযানের জন্য এই প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন বাঘাই।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অনুমানকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষই নেবে।
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুক্তির প্রতিটি বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। যখনই আমরা এমন একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব যা ইরানি জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করবে, তখনই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।”
ঢাকা/ফিরোজ
এখন থেকে আর বর্ডারে উত্তেজনা থাকবে না: ভারতের নতুন হাইকমিশনার