ঢাকা     শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৮ ১৪৩২ || ২২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অপরাধ জগতে ছড়াচ্ছে ‘পেন গান’, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

মাকসুদুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪৮, ১১ এপ্রিল ২০২৬
অপরাধ জগতে ছড়াচ্ছে ‘পেন গান’, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

পেন গান

অপরাধ জগতে ছদ্মবেশী ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেন গান’-এর ব্যবহার ও বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। কলমের মতো দেখতে এই অস্ত্র সহজে লুকিয়ে রাখা যায় এবং শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে এর ব্যবহার বাড়ছে। সম্প্রতি এক হত্যাচেষ্টা তদন্তে এমন অস্ত্র উদ্ধারের পর এর উৎস, চোরাচালান নেটওয়ার্ক ও বিস্তার নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দারা বলছে, ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকায় যুবদল নেতাকে হতাচেষ্টায় পেন গান বা কলম পিস্তল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতে এমন অস্ত্র ব্যবহারের খবরও পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এটি ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি করেছে। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজে লুকিয়ে রাখা যায় এবং গুলি ছোড়ার আগে শনাক্ত করা কঠিনও। যুবদল নেতার গুলির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এই পেন গানের রহস্য উদঘাটন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের একটি দল। যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জে থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সাইমন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে এই বিশেষ অস্ত্রটি জব্দ করা হয়। গোয়েন্দারা এখন এর উৎস এবং চোরাচালান রোড খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) নজরুল ইসলাম বলেন, “দুটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আমরা ক্ষুদ্র এই অস্ত্রটির সন্ধান পেয়েছি। তবে তারা কীভাবে, কোন পন্থা অবলম্বন করে এবং কোন কোন অপরাধীদের কাছে এই অস্ত্র থাকতে পারে সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। যার উদ্দেশ্য আগামীতে কেউ যেন এ ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে।”

জানা গেছে,, প্রতিবেশী দেশ থেকে এই অস্ত্র বাংলাদেশে ঢুকছে। হাত বদল হয়ে পৌঁছে গেছে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অপরাধীদের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের চরমপন্থী গ্রুপগুলো সদস্যদের হাতে। যা মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পেন গান হলো আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং দেখতে অবিকল সাধারণ কলমের মতো একটি আগ্নেয়াস্ত্র। এর গঠনশৈলী এতটাই নিখুঁত যে, সাধারণ দৃষ্টিতে এটিকে একটি লিখন সামগ্রী ছাড়া অন্য কিছু মনে হওয়া প্রায় অসম্ভব। সাধারণত এতে একটি ছোট ফায়ারিং মেকানিজম থাকে, যা একটি বুলেট ছোড়ার সক্ষমতা রাখে। কলমের মতো দেখতে হওয়ায় এটি পকেটে, ব্যাগে এমনকি সিগারেটের প্যাকেটেও খুব সহজেই লুকিয়ে রাখা যায়। মেটাল ডিটেক্টর বা তল্লাশির সময় এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে সক্ষম হতে পারে, কারণ এটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সাথে মেলে না। আর উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোতে কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং মার্ক বা সিরিয়াল নম্বর পাওয়া যায়নি। আবার এগুলোর উৎস বা ট্র্যাকিং করা অত্যন্ত কঠিন। খুব কাছ থেকে হামলার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আক্রমণকারী মুহূর্তের মধ্যে এটি ব্যবহার করে পালিয়ে যেতে পারে। পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলের ওপর সশস্ত্র হামলার পর এই অস্ত্রটি প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারী সোহেল ওরফে কাল্লুকে গ্রেপ্তারের পর তল্লাশি চালিয়ে একটি সিগারেটের প্যাকেট থেকে এই পেন গানটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, অস্ত্রটি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় তিনি সংগ্রহ করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু অস্ত্রটি সনাতন আগ্নেয়াস্ত্রের মতো নয়, তাই নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য তল্লাশি প্রক্রিয়ায় আরো আধুনিক প্রযুক্তি ও সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া, অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার অনলাইন বা অফলাইন মাধ্যমগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা বলেন, “এটি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। যেহেতু এটি ছোট এবং সন্দেহাতীত, তাই ভিআইপি বা ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন মূল্যে এর ব্যবহাররোধ করতে হবে।”

ঢাকা/এমআর/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়