ঢাকা     শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯ ||  ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০২, ২৬ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ০৯:০৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ অসংক্রামক রোগ ব‌লেও জানান মন্ত্রী।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রথম জাতীয় এনসিডি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে, ১০ শতাংশ ডায়াবেটিস ও প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্যান্সারে ভুগছেন। নতুন করে প্রতি বছর বি‌ভিন্ন রো‌গে আরও ৫০ হাজার যোগ হচ্ছে।

এস‌বের কারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, জীবন যাত্রাসহ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ওবিসিটি, অতিরিক্ত তামাক ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম, ওষুধের অপব্যবহারের ইত্যা‌দি কারণে এনসিডি বাড়ছে। এ অবস্থায় এনসিডি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়া‌নোর কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়‌মিত শারীরিক চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি আমা‌দের স্বাস্থ্যখা‌তে ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি বাড়ানো এবং প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীও প্রয়োজন।

জাহিদ মালেক বলেন, সরকার এনসিডি প্রতিরোধে সেক্টর ভিত্তিক প্রোগ্রাম হা‌তে নিয়েছে। দেশের আট বিভাগে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের জন্য বি‌শেষা‌য়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের সব জেলা হাসপাতালে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ বেড স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালসহ দেশের সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হচ্ছে।

এসময় মন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নন কমিউনিকেবল ডিজিজ ফোরাম ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামকে এই কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

সাম্প্রতিক সম‌য়ের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো কোভিড রোগী দিয়ে ভর্তি হওয়ায় অতী‌তে এনসিডি রোগীরা সেবা বঞ্চিত হয়ে‌ছে। দেরিতে সেবা নেওয়ায় মৃত্যুহারও বেড়েছে। এখন দেশে কোভিড পজিটিভটি রেট ৩২ শতাংশ, দিনে ১২ থে‌কে ১৫ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরা, জনসমাগম এড়ি‌য়ে চলা ও ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইস। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা প্রমুখ।

মেয়া/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়