ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩১

‘মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২ মে ২০২৪   আপডেট: ১৩:৫৩, ২ মে ২০২৪
‘মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ৫৭তম অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কর্মসূচি-আইসিপিডি পিওএ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে সারা দেশের সব মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও মঙ্গল নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বুধবার (১ মে) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ৫৭তম অধিবেশন আগামী ৩ মে শেষ হবে।

আইসিপিডি পিওএ বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ডিকেড অফ একশন  চলাকালে এজেন্ডা ২০৩০ অর্জন মূল্যায়ন ও টেকসই উন্নয়নে আইসিপিডি পিওএ এর ভূমিকা হলো এই বছরের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশন অধিবেশনের থিম।

ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫৫০০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছি এবং সপ্তায় ৭ দিন এবং ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা প্রদানের জন্য আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে ৪ জন করে ধাত্রী নিয়োগের পরিকল্পনা করছি।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্যবিষয়ক কৌশলপত্র (২০১৭-২০৩০) একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ যুবক-যুবতি যারা প্রতি বছর রিপ্রডাক্টিভ বয়সসীমায় প্রবেশ করে। আমরা বাল্যবিবাহ এবং নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে সংহিসতা রোধে কাজ কাজ করে যাচ্ছি। ৬ষ্ঠ থেকে ১২তম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত প্রায় ৫ মিলিয়ন মেয়েকে সরকার বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি অবহিত করেন। প্রতিমন্ত্রী মাতৃমৃত্যু ও জন্মহার হ্রাস, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান।

মূল অধিবেশনের সাইড লাইনে অনুষ্ঠিত ইউএনএফপি-এর মাতৃমৃত্যু বিষয়ক সিগনেচার সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী, সেখানে তিনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত ধাত্রী নিয়োগের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্য বর্ণনা করেন।

এছাড়াও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউএনএফপিএ এবং পিপিডি আয়োজিত আইসিপিডি কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার গুরুত্ব বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ভাইস মিনিস্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন; ও ইউএনএফপিএ-এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং নেদারল্যান্ডসের ভাইস মিনিস্টার কর্তৃক আয়োজিত আইসিপিডি-৩০ গ্লোবাল ডায়ালগ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, আইসিপিডি পিওএ’র ৩০তম বার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আগামী ১৫-১৬ মে  ঢাকায় একটি গ্লোবাল ডায়ালগের আয়োজন করছে।

/হাসান/মেসবাহ/সাইফ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়