ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১১ কো‌টি সা‌ড়ে ৩৪ লাখ টাকা পাচার

বেন‌জির ও তার স্ত্রী-কন্যাকে আসা‌মি ক‌রে দুদকের মামলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   আপডেট: ১৬:০০, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বেন‌জির ও তার স্ত্রী-কন্যাকে আসা‌মি ক‌রে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার ক‌রে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচা‌রের অ‌ভি‌যো‌গে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী, দুই কন্যার বিরু‌দ্ধে মামলা ক‌রে‌ছে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ বৃহস্প‌তিবার দুদ‌কের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হ‌য়ে মামলা‌টি দা‌য়ের ক‌রেন।

মামলায় বেন‌জির ছাড়াও তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই কন্যা ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর‌কে আসা‌মি করা হ‌য়ে‌ছে। মামলায় আসা‌মিদের বিরু‌দ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অ‌ভি‌যোগ আনা হ‌য়ে‌ছে।

মামলার এজাহা‌রে বলা হয়, আসা‌মি বেনজীর আহমেদ কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কর্পোরেট শাখা, ঢাকা থেকে চেকের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা, স্ত্রী জীশান মীর্জা তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১ কোটি করে ২ বার ২ কোটি টাকা, বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর তার একাউন্ট থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা উত্তলন করেন। টাকাগুলো তাদের নামে এফডিআর করা ছিল। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই তারা টাকা তুলে নিয়েছেন। এই টাকার গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই অর্থ অর্জন করেছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। 

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, জীশান মীর্জা, তাদের ২ কন্যার যৌথ মালিকানাধীন ‘সাউদার্ন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ’ নামে  সোনালী ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকা থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং ‘সাভানা ফার্ম প্রোডাক্ট’ নামে চলতি হিসাব থেকে ১৪ লাখ টাকা তুলেছেন। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, জীশান মীর্জা প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা শাখা থেকে ৬০ লাখ টাকা, তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ২০ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে চেকের মাধ্যমে আরো ১৬ লাখ টাকা নগদ তুলেছেন এবং গোপন করেছেন।  

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা এভাবে ৩টি ব্যাংকের ৭টি হিসাব থেকে মোট ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ৪ কর্ম দিবসে তুলেছেন। কিন্তু পরে এই টাকা কোথাও বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবং তারা টাকা তুলেই বিদেশে চলে যান। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

মামলার তদন্তকালে অভিযোগের সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আইনের আওতায় আনা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন// 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়