ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৬ ১৪৩২ || ২৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবি মোতায়েন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ২৭ মে ২০২৫  
সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবি মোতায়েন

সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল থেকে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারছেন না।

আরো পড়ুন:

দাবি আদায়ে সোমবার (২৬ মে) টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। আন্দোলনের সময় বেশ কিছু সময় সচিবালয়ের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। উত্তাল হয়ে উঠে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু-সচিবালয়। এ সময় জনপ্রশাসন সচিবের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। আজ আবারো বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

এদিকে, সচিবালয় ও তার আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। 

রাতে ডিএমপি এক নির্দেশনায় জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচিবালয় ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ১০ মে জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিক অংশ হিসেবে কার্যকর থাকবে। 

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”


গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদনের পর রবিবার গেজেট আকারে জারি হয়। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর থেকেই কর্মচারীরা এটি বাতিলের দাবিতে মিছিল সমাবেশ করে আসছে।
তারা অভিযোগ করেন, এই আইন সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করবে এবং চাকরির নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলবে।

অধ্যাদেশে যা আছে: অধ্যাদেশটিতে চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতায় এনে তিনটি শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং বেতন ও পদের গ্রেড কমিয়ে দেওয়া।

যেসব অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে সেগুলো হলো- অনানুগত্য দেখানো ও কাজে বাধা দেওয়া, একক বা সমবেতভাবে কাজে অনুপস্থিত থাকা, কাউকে কাজ থেকে বিরত থাকতে উস্কানি দেওয়া এবং কাউকে কাজ করতে বাধা দেওয়া।

অধ্যাদেশের সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে- কোনো সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য কোনো কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কাজে বাধা তৈরি করে তাহলে সেটি হবে একটি অসদাচরণ।

এমন অপরাধের জন্য পদ বা বেতন গ্রেড অবনমিতকরণ, চাকরি হতে অপসারণ এবং এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে।

আবার কেউ যদি একক বা দলবদ্ধভাবে ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই কাজে অনুপস্থিত থাকেন বা এ ধরনের কাজ করতে কাউকে উস্কানি দেন বা কাউকে কাজ করতে বাধা দেন তাহলে তার জন্য একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি অভিযোগ গঠন করে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাও নোটিশ দেবেন। 

নোটিশের জবাব পেলে সেটি বিবেচনা করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে কিংবা তাকে কেন দণ্ড দেওয়া হবে না সেজন্য নোটিশ জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাও নোটিশ দিবেন কর্তৃপক্ষ।

এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দিলে তা বিবেচনা করে বা জবাব না দিলে অধ্যাদেশে যেসব শাস্তির কথা বলা হয়েছে তার যেকোনো দণ্ড দেওয়া যাবে।

কোনো কর্মচারীকে দণ্ড দেওয়া হলে তিনি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। যদিও দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি যেভাবে মনে করবেন সেভাবে আদেশ দিতে পারবেন।

কর্মচারীদের যে কারণে আপত্তি: সরকারি কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, এ অধ্যাদেশের কারণে সরকারি কর্মচারীদের যে কোনো নিবর্তনমূলক সিদ্ধান্তও বিনা প্রতিবাদে মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের মত প্রকাশের অধিকারও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

কারণ কাজ বন্ধ করে সভা সমাবেশ কিংবা কর্মবিরতির মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি তারা আর করতে পারবেন না, যেটিকে তারা তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে তারা মনে করেন।

আবার এটি প্রয়োগ করে যে কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে ভিন্নমতে বিশ্বাসীদের জন্য চাকরি করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা অনেকে মনে করেন।

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়