জ্বালানি সাশ্রয়ে কী করবেন আর কী করবেন না, নির্দেশনা জেনে নিন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে কী করতে হবে আর কী পরিবহার করা দরকার, সেসব নিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভােগের বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার আগাম সতর্কতামূলক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দেশের সব নাগরিককে জ্বালানি সাশ্রয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ের জন্য রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়িয়ে চলা, গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করে লিকেজজনিত অপচয় রোধ করা এবং অবৈধ গ্যাস ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং সম্ভব হলে কার-পুলিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার মাধ্যমেও জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন এবং অফিস-পরবর্তী জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার পরিহারের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় উৎস ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। বেশ কিছু তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র হামলার শিকার হওয়ায় উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঢাকা/এএএম/রাসেল