গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ভাতা চালুর প্রস্তাব দেবেন মির্জা ফখরুল
রবিবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও সন্তানদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা চালুর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৮ মার্চ) বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা এবং সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানাবেন যে এসব পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং ভবিষ্যতে এটি তাদের প্রাপ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে নির্বাচন হয়েছে—কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, আবার অনেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে গেছেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাদের সন্তানরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো এখনও নানা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই তাদের বাঁচিয়ে রাখা, সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।”
আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সানজিদা তুলির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাকে একজন সত্যিকারের নায়ক হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে তুলি এককভাবে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।”
‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এতে দেশের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্র অর্জনের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনসহ অনেক জাতীয় সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য ও শিল্পকর্ম তুলনামূলক কম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরবে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আন্দোলনে নিখোঁজ বা নিহত অনেকের সন্তানকে তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। কেউ কেউ বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশুকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
বক্তব্যের শেষে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সানজিদা তুলির প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও সানজিদা তুলি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।” বিষয়টি তাদের জন্য কষ্টের এবং এটিকে তিনি সবার ব্যর্থতা ও জাতির লজ্জা বলেও মন্তব্য করেন।
ঢাকা/আলী/ইভা