ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২ || ২২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৮, ১২ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৩:৫০, ১২ মার্চ ২০২৬
সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় সংসদকে যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই মহান সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে আমার রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি।”

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। 

তিনি বলেন, “বিগত সময়ে গুম, খুন, বন্দিশালা ও বিভিন্ন নিপীড়নের শিকার যারা হয়েছেন, এবং যাদের পরিবার স্বজন হারিয়েছেন, তাদের অবদানকে আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। কোনো নিপীড়ন-নির্যাতনই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে থামাতে পারেনি।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন। তিনি কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দুর্ভাগ্যবশত, দেশ ও জনগণের এই শুভ মুহূর্ত তিনি দেখতে পারেননি।”

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি ‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়, এটাই বিএনপির রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

তিনি মহান সংসদে উপস্থিত সব দলের সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। বলেন, “আমাদের দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোনো বিরোধ নেই।”

বিগত সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সংসদকে সব যুক্তি-তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।”

নতুন সংসদের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের ফলে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ বা পলাতক।”

পরবর্তীতে সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও ওই সংসদে সদ্য নির্বাচিত সদস্যদের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন।

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়